আলবেয়ার কাম্যুর ‘দ্য প্লেগ’ এবং কোভিড নাইনটিন

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৪৩

ংশ শতাব্দীর অস্তিত্ববাদী দার্শনিক আলবেয়ার কাম্যু জন্মেছিলেন ফরাসি অধিকৃত উপনিবেশ আলজেরিয়ার ওরাঁ শহরে ১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে। কাছ থেকে দেখেছিলেন ফরাসিদের নির্মম শোষণ-নিপীড়ন। জার্মান বাহিনী সুচতুর কৌশলে কীভাবে আইন-নৈতিকতাকে পাশ কেটে উপনিবেশগুলোকে শোষণ করেছে, তা আলজেরিয়ায় বড়ো হতে হতে প্রত্যক্ষ করেছিলেন কাম্যু। তাঁর লেখা সবক’টি উপন্যাসে বারবার যে শহরের কথা ঘুরে ফিরে এসেছে, সেটি ওরাঁ শহর। কখনো ভুলতে পারেননি, কাম্যুর পক্ষে ভুলে যাওয়ার কথাও না তাঁর স্মৃতিধন্য ওরাঁ শহরকে।

কাম্যু ছিলেন প্রচলিত শাস্ত্র, নিয়ম আর ছকে বাঁধা জীবনের বিরোধী। নিজস্বতা দিয়ে নিজেকে চেনানোর, জানান দেবার এক মহান কারিগর তিনি।  তিনি সৃষ্টিশীল কাজের প্রতিভূ। তিনি ইতিহাসের নিয়ন্ত্রণকারীদের কখনো সেবাদাসে পরিণত হবেন না, কারণ তাঁর মূল কাজ ইতিহাসকে ভেঙে সৃষ্টিশীল জীবনকে জাগরুক করা। তিনি থাকবেন নিপীড়িতদের পক্ষের মানুষ হয়ে। তিনি পৃথিবীর সব কর্মকে যৌক্তিক বলে মনে করেন না। মনে করেন, এক নিরর্থকতার আবরণে বন্দি পৃথিবী। তাঁর কাছে জন্ম-মৃত্যু সবই অর্থহীন, জীবনের সব কিছুতেই তিনি দেখেছেন নিরর্থকতা। অন্ধকারের মাঝে আলোর ঝিলিক খুঁজে পেতে চেয়েছেন নিজস্বতায়। তাঁর প্রতিবাদের উপকরণ, ভাষা ভিন্ন। সমাজে, রাষ্ট্রে বহুত্ববাদ আর বহুসংস্কৃতির সংমিশ্রণের পক্ষে ছিলেন তিনি।

ঔপন্যাসিক আলবেয়ার কাম্যু তাঁর মাত্র সাতচল্লিশ বছরের জীবনে দেখেছেন রাষ্ট্রের, ব্যক্তিজীবনের অনেক উত্থান-পতন। আলজেরিয়ার জাতীয় ফুটবল দলে খেলেছেন, সাংবাদিকতা করেছেন। একসময় ফ্রান্সে গিয়েছেন। এরই মধ্যে শুরু হয় বিশ্বযুদ্ধ। কিন্তু কাম্যু তাঁর পেশাগত দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেননি। দুঃসময়েও ‘কোঁবা’ নামের একটি নিষিদ্ধ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন, আর্টিকেল সংগ্রহের কাজ করতেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম খুব বেশি নয়, কিন্তু সবগুলোই এক-একটি বিস্ময়কর সৃষ্টি। ১৯৫৭ সালে চুয়াল্লিশ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কারও পান এই মহান সাহিত্যিক। সহজ-সরল ভাষায় কীভাবে ইতিহাসের সাথে সূক্ষ্ম রাজনৈতিক চেতনা মিশিয়ে সাহিত্যকে সর্বসাধারণের পাঠযোগ্য করে তোলা যায়, সে বিষয়ে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। ‘দ্য প্লেগ’ ঠিক সে ধারার একটি অস্তিত্ববাদী উপন্যাস।

সাহিত্য জীবনের প্রতিচ্ছবি, বিন্দু বিন্দু মিলে জীবন সিন্ধু। মহামারি আর যুদ্ধ-বিগ্রহের বাস্তবতায় সাহিত্যিকেরা পেয়ে যান লেখালেখির কাঁচামাল, নতুন প্লট। কলম ধরে এগোতে থাকেন সাহিত্যকে নতুন কিছু দেওয়ার তাগিদে। মহামারি নিয়ে লেখা যেসব উপন্যাস বিখ্যাত হয়েছে, আলবেয়ার কাম্যুর ‘দ্য প্লেগ’ তার অন্যতম মাস্টারপিস। ‘দ্য প্লেগ’ উপন্যাসটি যখন ১৯৩৯ সালে লেখা শুরু করেন, তখন বিশ্ব ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে বোমা আর মারণাস্ত্রের আঘাতে। চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

‘দ্য প্লেগ’ প্রতীকধর্মী কিংবা বলা যেতে পারে রূপক উপন্যাস। এর কাহিনিতে কাম্যুর শৈশব আছে, আছে আলজেরিয়ার ওরাঁ বন্দর, এখানকার মানুষের নিপীড়নের প্রতিকী বর্ণনা। সেখানে নেমে আসে এক ভয়াল ছোঁয়াচে রোগ প্লেগ, যা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এটি একটি নগরকে বদলে ফেলে, জীবনকে বদলে দেয়, মানুষের জীবনাচরণে পরিবর্তন ঘটায়, যেন এক স্বৈরাচারের উত্থান। মনে পড়ে যায়, নািস বাহিনীর ফ্রান্স দখলের কথা, হিটলারের কথা। একইসঙ্গে লেখক—পাঠকদের ধর্ম সম্পর্কে, জীবনের গভীর বোধ সম্পর্কে, সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে নবতর চৈতন্যের ইঙ্গিত দেন।

এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে পাঠক কেন পড়বেন ‘দ্য প্লেগ’, কিংবা পড়ে থাকলে পাঠক কি ‘দ্য প্লেগ’ ও ২০২০ সালের বিশ্বের মধ্যে কোনো সাদৃশ্য খুঁজে পাবেন? আমরা কি ২০১৯ সালে উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাসের ফলে বিশ্বব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন লক্ষ করি? উত্তর খুঁজতে উপন্যাসটি পড়তেই হবে।

ওরাঁ শহরে শত শত ইঁদুরের মৃত্যু, একজন থেকে আরেকজন—এভাবে শত শত জনের মধ্যে সংক্রমণ। এক অজানা জীবাণু সংক্রমণে সারা শহরে মৃত্যুর মিছিল ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। বিংশ শতাব্দীর নোবেলজয়ী অস্তিত্ববাদী লেখক আলবেয়ার কাম্যুর বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য প্লেগ’-এ এভাবে আলজেরীয় শহর ওরাঁর মহামারিতে আক্রান্ত হওয়ার বর্ণনা রয়েছে। জীবন-মৃত্যু, আশা-নিরাশা, সফলতা-ব্যর্থতা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, সাম্য-অসাম্য, শাসিত-শোষিত, যুদ্ধ-শান্তি—এই চিরায়ত দ্বন্দ্বের মধ্যে তিনি জীবনের সফলতা, সার্থকতা খুঁজেছেন, মানুষের মানবীয় অস্তিত্বের প্রমাণ করতে চেয়েছেন।

উপন্যাসে বর্ণিত ওরাঁ শহরে মানুষ এক অজানা জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। বাঁচার জন্য কেউ পালানোর চেষ্টা করছে, কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে, কেউ একে ঈশ্বরপ্রদত্ত গজব বলছে, কিছু চিকিত্সক আক্রান্ত মানুষদের সেবায় নিয়োজিত হচ্ছেন, কেউ কেউ গঠন করছেন স্বেচ্ছাসেবক দল। কাম্যুর কল্পিত এ শহর যেন তাঁর জন্মশহরের প্রতিনিধিত্ব করছে।

উপন্যাসে ডাক্তার রিও নিজ অসুস্থ স্ত্রীকে অন্য শহরের হাসপাতালে রেখে দিবারাত্রি প্লেগাক্রান্ত মানুষদের সেবায় নিয়োজিত হলেন। তিনি কোনো ব্যাখ্যায় গেলেন না; কেন এ মহামারি, কী তার সমাধান, সব বাদ দিয়ে তিনি মানুষের জন্য এগিয়ে এলেন। অন্যদিকে ফাদার প্যানিলো, যিনি একজন খ্রিস্টীয় যাজক, এ মহামারিকে চিহ্নিত করলেন মানুষের পাপের ফসল হিসেবে। তিনি একজন শিশুর মৃত্যুকে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের পরীক্ষা বলে অভিহিত করলেন। এ দুই বিপরীত চরিত্রের মানুষ দিয়ে কাম্যু মানুষের প্রকৃত চেহারা তুলে ধরলেন। প্রকারান্তরে নিজে রিও চরিত্রে লুকালেন।

এই উপন্যাসের ভেতর দিয়ে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আমরা আশার কথা শুনি। মাত্র ছয় মাসের মাথায় প্লেগও কমতে থাকে। ফলে জীবন আবার গতি, ছন্দ ফিরে পায়। উপন্যাসের একেবারে শেষদিকে ডাক্তার কিছু কথা জানান। যে রোগ মৃত্যুগন্ধি তা নাকি কোনোদিন একেবারে নিশ্চিহ্ন হয় না। কোথাও-না-কোথাও কোনো-না-কোনোভাব নিজেকে জিইয়ে রাখে। এ হচ্ছে মৃত্যুবীজ, যা যুগ যুগ ধরে জীবিত থাকে। এই যে বীজের ইঙ্গিত দেওয়া হলো, তা তো প্রচলিত কোনো বীজ মনে হয় না, এ হচ্ছে স্বৈরাচারের, ফ্যাসিজমের রূপক।

আলবেয়ার কাম্যু প্লেগ দেখেননি, পুস্তকে পড়েছেন বিউবোনিক প্লেগ, কলেরা মহামারি নিয়ে। অতীতে ঘটে যাওয়া মহামারিকে উপজীব্য করে লিখেছেন ‘দ্য প্লেগ’। প্লেগের আড়ালে পরোক্ষভাবে নািস বর্বরতা, নিপীড়নও তুলে ধরেন। বইটি ১৯৩৯ সালে লেখা শুরু করেন এবং প্রকাশ করেন দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধোত্তরকালে ১৯৪৭ সালে। আজ ইউরোপসহ সারাবিশ্ব সত্যি ‘প্লেগে’ আক্রান্ত। মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে অনাহারে, অর্ধাহারে, চরম অভাব সঙ্গে নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। হাসপাতালের বেডে কেউ হাঁপাচ্ছে অক্সিজেন স্বল্পতায়, কেউ তীব্র শ্বাসকষ্টে মৃত্যুর প্রহর গুনছে; অন্যদিকে লাশঘরে পড়ে আছে অসংখ্য লাশ সত্কারের অপেক্ষায়। এ যেন কাম্যুর কল্পিত ওরাঁ শহর। চারদিকে মৃত্যু, চারদিকে লাশ, চারদিকে হাহাকার। কে আসবে কাকে বাঁচাতে। কাম্যুর বর্ণিত ডাক্তার রিও, জাঁ তারাউ, রঁ বেয়ার অভাব বোধ করছে পুরো পৃথিবী। সবাই ব্যস্ত নিজ নিজ ব্যাখ্যায়, তত্ত্বে, সর্বোপরি নিজেকে বাঁচানোর কৌশলে।

‘দ্য প্লেগ’ উপন্যাসের কোথাও লেখক সরাসরি নািস বাহিনীর নির্মমতা কিংবা ফরাসিদের অসহায়ত্বের কথা বর্ণনা করেননি। কিন্তু যে প্রবল শক্তিশালী মহামারির করাল গ্রাসের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তা নািস বাহিনীর অমানবিকতারই প্রতিনিধিত্ব করে। একটু খোলস পাল্টিয়ে দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। মহামারির আতঙ্কে পুরো শহর ভীতসন্ত্রস্ত, স্তব্ধ, স্থবির। প্রতি সপ্তাহ শেষে যখন মৃত মানুষের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়, তখন বেঁচে থাকা মানুষগুলো পুনরায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়। বেঁচে থাকা নিয়ে তারা সন্দিহান হয়ে পড়ে।

উপন্যাসের চরিত্র প্রসঙ্গে এলে প্রথমেই ডাক্তার বার্নাড রিওর কথা উঠে আসে। লম্বা, কালো চামড়ার এই মানুষটি পেশায় একজন ডাক্তার। মহামারির প্রকোপ থেকে শহরের মানুষদের বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন তিনি। মহামারির আগমনের পর তার ব্যক্তিজীবন বলতে আর কিছুই থাকে না। তারপরও তিনি আশাবাদী। তার অস্তিত্ববাদী দার্শনিকতাসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পায়। মনে হয়, কাম্যু নিজেই চরিত্রটি বয়ে বেড়ান।

উপন্যাসে জানুয়ারি মাস থেকে কমে আসে মহামারির প্রকোপ। দোর্দণ্ড প্রতাপশালী মহামারির রাজত্বের দিন শেষ হয়। মানুষ আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। যেন মুক্তি পায় ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কিংবা পরাজিত করে নািসদের।

বিংশ শতাব্দীর কাম্যুর পৃথিবী একবিংশ শতাব্দীর কুড়ি বছর পার করেছে মাত্র। এরই মধ্যে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে আজ কোভিড নাইনটিনের ভয়াবহতা চলছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের কয়েক কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় দশ লাখ মানুষ। সারা বিশ্ব প্রকম্পিত এক অদেখা জীবাণুর সংক্রমণে। গবেষক, বিজ্ঞানী, চিকিত্সক ব্যস্ত এর প্রতিষেধক কিংবা ঔষধ আবিষ্কারের জন্য। অন্যদিকে প্রতিদিন কর্মহীন হচ্ছে, দরিদ্র হচ্ছে, উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। এমন এক ভাইরাস, যা স্পর্শ করলেই সংক্রমিত হবার আশঙ্কা। ফলে কাম্যুর সেই মানবিক বিশ্ব, নিজ অস্তিত্বকে প্রমাণ করার প্রাণান্ত চেষ্টা, মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা বোধ করি উপেক্ষিত হচ্ছে। সবাই কেবল পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

‘দ্য প্লেগ’ উপন্যাস কি শুধুই সমকালীন মহামারির হিংস্রতার কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে নাকি এর মধ্যে ভূ-রাজনীতির নগ্ন খেলাও রয়েছে? এই প্রশ্ন সাহিত্য-সমালোচকদের মনে জাগ্রত হতেই পারে। কাম্যুর ওরাঁ শহর কেবলই প্লেগ দ্বারা আবদ্ধ ছিল না, পুরো দেশটাই ছিল পরাধীনতার শিকলে বন্দি। নভেল করোনা ভাইরাসের উত্পত্তি নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে বিতর্ক চলছে, চলছে পারস্পরিক দোষারোপ; পর্দার আড়ালে চলছে ভূ-রাজনৈতিক দাবা খেলা। একদিকে চীন-ভারত-পাকিস্তান-নেপাল, মধ্যপ্রাচ্য-দূরপ্রাচ্য; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বিবাদ প্রকাশ্যে, আড়ালে চলছে। তখন হিটলারের নািস বাহিনী ফ্রান্স অধিকৃত আলজেরীয় এ শহর দখল করছিল, আজ এ শতাব্দীতে ভিন্ন আঙ্গিকে চলছে দেশ দখল, ঔপনিবেশিক শাসন।

কোভিড নাইনটিন আক্রান্ত এ বিশ্বে আজ প্রয়োজন ডাক্তার রিও, জাঁ  তারাউ, রঁ বেয়ার মতো কিছু মানুষের—যারা মানুষের চরম কিংবা স্বাভাবিক অবস্থায় নিজ মনুষ্যত্ব, অস্তিত্বকে জাগ্রত করে সেবার ব্রত নিয়ে এগিয়ে আসবে, মৃত্যুকে আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে জয় করবে, জীবনকে অর্থপূর্ণ ও সার্থক করে তুলবে। আলবেয়ার কাম্যু একটি নির্দিষ্ট সময়কে নয়, বরং জগতের প্রতিটি মুহূর্তকে প্লেগাতঙ্ক মনে করে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে, সেবায় নিয়োজিত হতে, মনুষ্যত্বের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে সহমর্মীদের পথ বাতলে দিয়েছেন। সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমাদের যার যা দায়িত্ব তা পরিপূর্ণভাবে পালন করার মাধ্যমে করোনামুক্ত নতুন পৃথিবী আবার আমরা পেতে পারি, যেমনিভাবে পেয়েছিল ওরাঁবাসী। অস্তিত্ববাদী দার্শনিক কাম্যুর এই শিক্ষা  থেকে আমরা ঘোর অন্ধকার কাটিয়ে আলোর সন্ধান পাব। জয় হবে মানুষের, মানবতার।