গতবারের ফাইনালিস্ট দুই দল। এবারও কাগজে কলমে সবচেয়ে বড় শক্তিধর তারা। ইতিমধ্যে মাঠের খেলাতেও প্রমাণ পাওয়া গেছে, কেনো তাদের বড় দল বলা হচ্ছে। আজ সেই ঢাকা ডায়নামাইটস ও রংপুর রাইডার্স মুখোমুখি হচ্ছে। মুখোমুখি হচ্ছে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের দল।
এই মহা লড়াইয়ের আগে দুই দলের গত ফাইনালের স্মৃতি ফিরে আসার কথা। কিন্তু কোনো দলই সেই ফাইনালকে সামনে আনতে চাচ্ছে না। তাদের কাছে বরং এটা আরেকটা জয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বড় একটা সুযোগ।
ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বলছিলেন, এটা অনেক বড় ম্যাচ। আর এই ম্যাচেও মোমেন্টাম ধরে রাখতে চান তারা, ‘আমাদের জন্য আগামীকাল অবশ্যই একটি বড় ম্যাচ। মাশাল্লাহ গত দুই ম্যাচে আমরা ভালো খেলেছি। আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। টি-টোয়েন্টি এমন একটি ফরম্যাট যেখানে মোমেন্টাম অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শুরুর ধাপে যদি আমরা মোমেন্টামটি ধরে রাখতে পারি যেটি গত দুই ম্যাচে হয়েছে সেটি করতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগবে। অবশ্যই কালকে একটি বড় ম্যাচ।’
রংপুর দলের প্রশংসা করেও সুজন বললেন, তারা চান ভালো একটা ম্যাচ, ‘আমি যেটি বললাম যে মাশরাফির নেতৃত্বে দারুণ একটি দল রংপুর। আমরাও মাশাল্লাহ ভালো একটি শুরু করেছি। তবে সবথেকে ভালো কথা হলো ভালো খেলা হোক। কারণ এখন পর্যন্ত তেমন জমজমাট লড়াই হয়নি বিপিএলে। যেমন ক্লোজ ফিনিশ আসুক তেমনটি হয়নি। আমি চাইবো যে যত সহজভাবে জেতা যায়, এরপরেও প্রত্যাশা করি যে ভালো খেলা হোক, দর্শকেরা আনন্দ পাক। বিপিএলের জন্য যেটি ভালো, বড় খেলা দেখুক, বড় স্কোরিং দেখুক সেটি ভালো।’
সবমিলিয়ে সুজন চান এই ম্যাচটা যেনো অন্তত রানের উত্সব হয়ে ওঠে, ‘রানের খেলা বিপিএল। টি-টোয়েন্টির এই ফরম্যাটে যত ভালো খেলা হবে আমাদের জন্যই সেটা ভালো। এখন পর্যন্ত আমাদের এক্সিকিউশন পারফেক্ট, যেভাবে আমরা পরিকল্পনা করেছি সেটুকু আমরা করতে পেরেছি। আর যে দুই ম্যাচ চলে গিয়েছে সেটা তো ফিরে আসবে না। সুতরাং সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই। আগামীকালের ম্যাচটির জন্য নতুন পরিকল্পনা থাকবে। আর সেই পরিকল্পনা যেন আমরা ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে খুবই ভালো হবে আসলে।’ অন্যদিকে রংপুরের তারকা ব্যাটসম্যান রিলি রুশো বলছেন, এই ম্যাচটার দিকে তারা চেয়ে আছেন আগে থেকেই, ‘ক্রিকেটাররা সবাই এই ম্যাচের দিকে চেয়ে আছে। আমরা জানি, ঢাকা খুব শক্তিশালী একটা দল। অবশ্য বিপিএলের সব দলই শক্তিশালী।’
প্রথম ম্যাচে হারের পর টানা দুই জয় নিয়ে রংপুর ভালো অবস্থায় আছে বলে বিশ্বাস রুশোর, ‘আমাদের অবস্থা বেশ ভালো। প্রথম ম্যাচে হারার পর আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোটা জরুরি ছিলো। এরপর টানা দুই ম্যাচ জিতে ক্রিকেটাররা সবাই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আগামীকালকের বড় ম্যাচ খেলতে নামবে। আশা গত তিন ও চার নম্বর খেলায় আমরা যা করেছি, সেটা আবার করতে পারবো।’
এই ম্যাচটা গতবারের মতো ফাইনাল না হলেও এখানে জয় চান রুশোরা। তাই বলছিলেন, ‘এটা ফাইনাল নয়। তবে আমরা এবারও জয় চাই। আমরা হারার জন্য কোনো ম্যাচই খেলতে নামবো না। আগেও যেটা বলেছি, এটা আমাদের জন্য বড় একটা ম্যাচ হতে যাচ্ছে।’
