আলুর বাজার দর সমস্যায় হিমাগার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:০২

রেজাউল হক কৌশিক

 

আলু এমন একটি সবজি যা ধনী, গরিব ও মধ্যবিত্ত সবাই খেয়ে থাকেন। আবার মাছ, মাংস, ভাজি সব ধরনের তরকারিতে ব্যবহার হয়। তার পরও অন্যান্য সবজির চেয়ে আলুর দর কম। চলতি বছরে আলুর বাজারদর অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে  কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে আলু বিক্রয় হচ্ছে।

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের কারণে সারা বছরই মানুষ এ সবজি পেয়ে থাকে। যাদের মাধ্যমে এ কাজটি হয়ে থাকে সেই হিমাগার মালিকরাই বিপাকে আছে। মূলত, গত ২০১১, ২০১৩ এবং সর্বশেষ ২০১৭ সনে আলুর বাজার দরের স্মরণকালের ধস। ৮০ কেজির এক বস্তা আলু মাত্র ১০০ টাকা দরে বিক্রয় হয়। শেষ দিকে হিমাগার থেকে আলু ফেলে দিতে হয়েছিল। এই উপর্যুপরি আর্থিক ক্ষতিতে হিমাগার মালিকদের কোমর ভেঙে গেছে। সব পুঁজি শেষ এবং ঋণগ্রস্ত ও দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। অনেক হিমাগার মালিক সহায় সম্পত্তি বিক্রয় করে পথে বসেছেন। উত্তরাঞ্চলের কয়েক জন হিমাগার মালিক আত্মহত্যা করেছেন।

এমন পরিস্থিতিতেও ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হলে ঋণ মওকুফ করাতো দূরের কথা, সুদ মওকুফ করছে না। উলটো অনেক কোল্ড স্টোরেজের বিরুদ্ধে ব্যাংক মামলা করেছে। ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি না হলেও তাদের বাত্সরিক আয়ের সঙ্গে মিল রেখে ব্যাংক ঋণের কিস্তি করছে না। সরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলো হিমাগার মালিকদের সঙ্গে নির্মম আচরণ করছে।

পরিসংখ্যান দেখলে সহজেই আলু চাহিদা ও জোগান বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। প্রতি বছর দেশে আলু উত্পাদন হয় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টন। এর মধ্যে বছরের শুরুতে খাওয়া, রপ্তানি ও কৃষকের গোলার হিসাব বাদ দিলে বাকিটা অর্থাত্ ৬০ লাখ টন হিমাগারে রাখা হয়। চলতি বছর আলুর উত্পাদন ছিল প্রায় ৮০ লাখ টন।

জানা গেছে, সারা দেশে ৪২৮টি কোল্ড স্টোরেজ আছে। এর মধ্যে আলুর স্বল্পতা ও পুঁজির অভাবে ৩২টির মতো বন্ধ আছে। দেশের কোল্ড স্টোরেজগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ৬০ লাখ টন। এর মধ্যে ৩৬০টি হিমাগারে ৪০ লাখ টন আলু সংরক্ষিত হয়েছে। অর্থাত্ কোল্ড স্টোরেজে ধারণক্ষমতা পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এর প্রধান কারণ আলু উত্পাদন কম এবং বেশির ভাগ হিমাগার মালিকরা ব্যাংক লোন না পাওয়ায় আলু ক্রয় করতে পারেনি। ফলে কৃষক,  ব্যাপারী, মজুতদার, আড়তদাররা বেশির ভাগ আলু কম ভাড়ায় হিমাগারে সংরক্ষণ করেছে। এরাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। হিমাগারের মালিকরা বিদ্যুত্ বিল, লেবার ও স্টাফ খরচ মিটানোর জন্য সুদে টাকা ধার করছে।

এ অবস্থায় টিকে থেকে দৈনন্দিন খরচ মেটাতে প্রণোদনা বাবদ ঋণের প্রয়োজন। সব ব্যাংক এদিকে যাতে এগিয়ে আসে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জরুরিভিত্তিতে নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া যে সকল হিমাগার রুগ্ন ও ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না, তাদের আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি করে দিলে ভালো হবে। এর ফলে সবগুলো হিমাগার চালু হলে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা সংরক্ষিত হবে, আলুর বাজার দর স্বাভাবিক থাকবে এবং অন্যদিকে ব্যাংকগুলো তাদের পাওনা নিয়মিত কিস্তির মাধ্যমে পাবে।