গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে সৃষ্ট চলমান সংকট সমাধানের লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৈঠক করেছে ১২ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি। বৈঠকে মজুরি কাঠামোর মূল সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান। আগামী রবিবার কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে একটি সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, চলমান আন্দোলনের পঞ্চম দিনেও আশুলিয়া, গাজীপুর ও রাজধানী ঢাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। সাভারের ১০ কারখানায় ও গাজীপুরে অন্তত ১৫ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর পল্লবী ও শেওড়াপাড়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছে।
সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ে কারখানা মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সরকারের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন আফরোজা খান। সূত্র জানায়, মজুরি নিয়ে মূল সমস্যা গ্রেডভিত্তিক মূল মজুরি বাড়ানো নিয়ে। গতকালের সভায় মজুরি কাঠামোর সাতটা গ্রেডের মধ্যে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে মূলত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বৈঠক শেষে আফরোজা খান বলেন, যেহেতু সমস্যা শনাক্ত হয়েছে সেহেতু সমস্যা সমাধান করা যাবে। আগামী রবিবার কমিটির বৈঠক আবার বসবে। ওই বৈঠকে চিহ্নিত তিনটি গ্রেডের বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, কমিটিকে বিষয়টি সমাধানে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের আগেই বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে। শ্রমিকদের কারো বেতনই কমবে না।
বৈঠকে গার্মেন্টস শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, মোহাম্মদী গ্রুপের প্রধান রুবানা হক, শ্রমিক নেতা ফজলুল হক মন্টু, বেগম শামছুন্নাহার ভুঁইয়া, আমিরুল হক আমিন, সালাউদ্দিন স্বপন, সিরাজুল ইসলাম রনি, বাবুল আক্তার, নাজমা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলন ও বিক্ষোভ পঞ্চম দিনে
পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, সকালে আশুলিয়ার বেরন এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করলে শ্রমিকদের পুলিশ ধাওয়া ও লাঠিচার্জ করে। এসময় শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে বিজিবি ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রায় ১ ঘণ্টা পর টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৩০ জন। ১০ টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া, চান্দনা চৌরাস্তা ও বড়বাড়ি এলাকায় শ্রমিকরা দাবি আদায়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভাংচুর ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে অন্তত ১৫টি কারখানায়।
রাজধানীর কালশীতে স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টসহ আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মালিক মোশাররফ হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় ঘণ্টাখানেক তার সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনা হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে শ্রমিকরা শনিবার থেকে কাজে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
সকাল ১০টার দিকে মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় আলফা ইউনিট ১ ও ২ লিমিটেড এর পোশাক শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।
