নির্বাচনী সহিংসতায় আওয়ামী লীগের ১৯, বিএনপির ৪ জন নিহত

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৪০

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৭০টি সহিংসতার ঘটনায় ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৯ জন ও বিএনপির ৪ জন। এছাড়া ২০১৮ সালে ৭০১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬৭ জন নিহত হয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৮ : আসকের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আসকের নির্বাহী পরিচালক সিফা হাফিজা, সিনিয়র উপ-পরিচালক নিনা গোস্বামী, সদস্য তাহমিনা রহমান প্রমুখ।

সংগঠনের তদন্ত কর্মকর্তা আবু আহমেদ ফয়জুল কবির জানান, বিগত বছরগুলোর মতো ২০১৮ সালের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। বছরজুড়ে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন ৪৬৬ জন। এর মধ্যে মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে ২৯২ জন নিহত হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, নিখোঁজ ও গুমের শিকার হয়েছেন ৩৪ জন। এদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে ১৯ জনের সন্ধান পাওয়া গেলেও তাদের অধিকাংশ বিভিন্ন মামলায় আটক রয়েছে।

দেশে শিশু নির্যাতন ও হত্যা বেড়েছে। ২০১৮ সালে সারাদেশে ১ হাজার ১১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তারমধ্যে বিভিন্ন কারণে মৃত্যু হয়েছে ২৮৩ জনের।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে সম্মেলনে জানানো হয়, গেল বছরে হিন্দু সমপ্রদায়ের উপাসনালয়ে ৯৭টি প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং ২৯টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এতে একজন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের চিত্রও স্থান পেয়েছে আসকের পর্যবেক্ষণে। এতে বলা হয়েছে, গত বছরে হামলা, মামলা, হুমকি ও হয়রানিসহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২০৭ জন সাংবাদিক। এছাড়া ৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়ছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো মত প্রকাশের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।