রংপুরের মধ্য গণেশপুর মধ্যপাড়ায় দুই বোনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে নিহত জান্নাতুল মাওয়ার বাবা মমিনুল ইসলাম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্টোপলিটন কোতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
রংপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, গত শুক্রবার গনেশপুর এলাকা থেকে সোমাইয়া আক্তার মীমের (১৬) মরদেহ ঘরের ভেতর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলানো অবস্থায় এবং তার চাচাতো বোন জান্নাতুল মাওয়ার (১৪) মরদেহ মেঝেতে পরে থাকা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মূল মটিভ জানার চেষ্টা করছি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলে বিষয়টি আরও পরিস্কার হবে। ইতিমধ্যে ক্রাইম সিন থেকে আলামত জব্দসহ তাদের আত্মীয় স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা বেশ কয়েকটি দিক বিবেচনা করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
তিনি বলেন, আমরা অনেককেই নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছি। তবে কাউকে গ্রেফতার কিংবা আটক করা হয়নি। শীঘ্রই মূল ঘটনা উদঘাটন করে জানানো হবে।
এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের পর রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। শুক্রবার সন্ধ্যার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত মীম ও মাওয়ার পরিবারের লোকজনদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি ওই রাতেই নগরীর উত্তর বাবঁখা থেকে মাহফুজার রহমান রিফাত ও সদর উপজেলার লাহিড়ীরহাট এলাকা থেকে আরিফুল ইসলাম নামে দুই যুবককে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আটক রিফাত ও আরিফুল নগরীর মুলাটোল মদিনাতুল উলুম কামিল এম.এ মাদরাসার আলিম প্রথমবর্ষের ছাত্র। তারা দুজনে বন্ধু। নিহত মীমও ওই মাদরাসা থেকে এবারে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়। রিফাতের সঙ্গে নিহত মীমের ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। প্রেমের সূত্র ধরে এ হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমকিভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ময়না তদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে নিহত দুই বোনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসি
