দু বছর ধরে রুমকি অসংখ্যবার অসংখ্যভাবে বলেছে, ভালোবাসি। রবিন কখনো বলেনি। তাতে অবশ্য রুমকির উজাড় হয়ে যেতে কোনো অসুবিধাই হয়নি। তবে লুকানো পিপাসাটা আছে রুমকির। রবিন কি বলবে কখনো? কেমন হবে সেই মুহূর্ত?
রবিন কথা কম বলে আর রুমকি ঝরনা স্বভাবের। রুমকির কলকল ধারায় রবিন চুপচাপ ভেজে। ভিজতে ভিজতে রবিন আজ আচমকা বলে ফেলে, আই লাভ ইউ মোর দ্যান হোল ওয়ার্ল্ড। রুমকির বুক ধক করে ওঠে এবং শব্দগুলো দুধারী ছুরির মতো রুমকির ধক করা বুকে ঝড়ের বেগে গেঁথে যায়। অক্ষরে অক্ষরে রবিনকে ভেঙেচুরে সেঁটে থাকতে দেখে রুমকি। রুমকির মনে হতে থাকে শব্দগুলো দাবানল স্বভাবের; জ্বালিয়েপুড়িয়ে পৌঁছে যায় রুমকির নাভীমূলে।
রবিন রুমকিকে বলে, গো টু দ্য পোর্চ। রুমকি বারান্দায় বেরিয়ে আসে। রবিনের ব্যাকইয়ার্ড সবুজে হলুদে ভরপুর। বটল ব্রাশ আর ইউক্যালিপটাস গাছই বেশি। আর আছে গোল্ডেন ওয়াটল গাছের দল। সবুজ পাতা ঠেলে বেরিয়ে এসেছে হলুদ ফুলের গুচ্ছ। রবিন গোল্ডেন ওয়াটলের দলটাকে এনে বসিয়ে দেয় রুমকির বারান্দা ঘিরে। জিজ্ঞেস করে, ডু ইউ সি? রুমকি চোখ বন্ধ করে দেখে হলুদ ফুলের ঝাঁক উত্সুক চোখে তাকিয়ে আছে রুমকির ফুলকি জ্বলা চোখে।
রুমকির ঘোর লেগেছে। ঘোর-মনে মনে হতে থাকে কোথাও অচেনা ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। রুমকি আগে কখনো এরকম বৃষ্টির হদিস পায়নি। রুমকি বৃষ্টিকে পাঠিয়ে দেয় রবিনের বাড়ি।
এতসব কাণ্ডের মধ্যে গোল্ডেন ওয়াটল আর বৃষ্টির রহস্যময় না হয়ে ওঠার কোনো কারণ নেই। তারা রহস্যময় হলো আর ধেয়ে এলো রুমকি-রবিনের দিকে। রবিন তার জানালা দিয়ে ফুলগুচ্ছের দিকে তাকিয়ে বলে, ডু ইউ ফিল দ্য টারবুলেন্ট স্মেল?
মুহূর্তে রুমকির বারান্দা ভরে যায় গোল্ডেন ওয়াটলের ঘ্রাণে! রুমকি জিজ্ঞেস করে, বৃষ্টি টের পাচ্ছ? রবিন বলে, থার্স্টি রেইন! ক্যান আই টাচ ইয়োর ফ্র্যাকগনেন্স?
রবিনের প্রশ্নের উত্তরে রুমকির চেহারায় ফুটে ওঠে কোমল আলো। রবিন এক পা এগিয়ে আসে। দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রুমকি। রুমকির কাঁধ বরাবর দুপাশ থেকে দুহাত তুলে দেয়ালে রাখে রবিন। থার্ড ব্র্যাকেটে আটকে যায় রুমকি। রুমকির কপালে নুয়ে থাকা চুলে লেপটে যায় রবিনের কথার ঠোঁট। রবিনের প্রথম স্পর্শ! রুমকির একূল ওকূল জুড়ে উড়ে বেড়াতে থাকে রবিনের ডানামেলা কথা।
রুমকি আর রবিনের ওলটপালটের মুহূর্তে বড়সর এক কৃষ্ণচূড়াগাছ ভেঙে পড়ে আর কোরাল সাগর উলটে যায় এক বাটি জলের মতো। ওশেনিয়া মহাদেশ থেকে ছুটে আসে রবিনের শব্দগুচ্ছ, ডোন্ট লিভ মি। এশিয়া মহাদেশ থেকে ছুটে যায় রুমকির উত্তর, কখনো না।
গভীর রাতে ল্যাপটপের সামনে রবিন আর নিস্তব্ধ দুপুরে ফোনে চোখ রেখে বারান্দার দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রুমকি। তাদের হোয়াটস অ্যাপ উপচে উঠছে অলৌকিক আলোয় ধোয়া কথায়। ওরা কিবোর্ডে ঝড় তুলে আশ্চর্য পৃথিবী বানিয়ে চলেছে।
অলংকরণ :অবিনাশ আচার্য
