সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার
এফএম রেডিওর শুরুর সময় থেকেই শ্রোতাদের মাঝে জনপ্রিয় রেডিও জকিরা। রেডিও জকি বা আরজে কোনো সদৃশ্য তারকা নন। বেতার তরঙ্গের মধ্য দিয়ে নিজের কণ্ঠের মাধ্যমেই তারা শ্রোতাদেরকে মাতিয়ে রাখেন। না দেখেও কণ্ঠ শুনে আকর্ষণ অনুভব করেন অসংখ্য শ্রোতা। দীর্ঘদিন ধরে এফএম রেডিও জগতে সম্পৃক্ত এমন অনেক আরজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দারুণ জনপ্রিয়। এমনই একজন আরজে হলেন উদয় চৌধুরী, যিনি বর্তমানে জাগো এফএম-এর স্টেশন হেড হিসেবে কাজ করছেন। জনপ্রিয় এই আরজের নিজের ফেসবুক পেজটিই দেশের প্রথম ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ। নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এবার উদয় নিয়েছেন অনন্য এক উদ্যোগ।
ফেসবুকে যারা আরজে উদয়কে ফলো করেন তাদের অধিকাংশই তার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের শ্রোতা এবং ঢাকা শহরের বাসিন্দা। কারণ ঢাকার বাইরে অন্যান্য জায়গায় এফএম রেডিওর খুব ভালো সিগন্যাল পাওয়া যায় না। ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে এই ভক্ত-শ্রোতাদের সাড়া দেখে উদয় ভাবেন, এই শীতে পথশিশুদের পাশে দাঁড়াতে সবাইকে নিয়েই কিছু একটা করবেন। উদয়ের ভক্তদের নিয়ে ফেসবুকে ‘আরজে উদয় ফ্যান ক্লাব’ নামের একটা গ্রুপও রয়েছে। মাসখানেক আগে সেই গ্রুপের উদ্যোগেই শুরু হয় শীতবস্ত্র সংগ্রহ। তত্ত্বাবধানে ছিল জাগো এফএম। এমন উদ্যোগের ঘোষণা দিতেই দারুণভাবে সাড়া দেন ফেসবুকে ফ্যান পেজ ও গ্রুপে যুক্ত থাকা অনেকে।
এ প্রসঙ্গে আরজে উদয় বলেন, ‘প্রচুর মানুষ আছেন, যারা অন্যকে সাহায্য করতে চান। কিন্তু মাধ্যম খুঁজে পান না। আমরা যখন ফেসবুকের মাধ্যমে ঘোষণা করলাম যে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকার পথশিশুদেরকে শীতবস্ত্র দেবো তখন প্রচুর মানুষ সাড়া দিলেন। প্রবাস থেকেও অনেকে সাড়া দিয়েছেন, অর্থ পাঠিয়েছেন। অনেকেই নিজের পুরোনো জামটা কাউকে দেওয়ার জন্য নিয়ে এসেছেন। সব মিলিয়ে সংগ্রহ করা প্রায় ১০ হাজার শীতবস্ত্র নিয়ে আমরা চলে যাই বিভিন্ন এলাকায়।’ জানা গেছে, ফ্যান ক্লাব থেকেই ৩০ জন তরুণ এতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। পথশিশুরা ছাড়াও অনেক দরিদ্র ও বয়স্ক মানুষকেও শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। কমলাপুর রেলস্টেশন, মহাখালীর কড়াইল বস্তি, বাড্ডাসহ মিরপুর এলাকায় পথশিশুদের বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ স্কুলে গেছেন তারা।
আরজে উদয় এক সময় মঞ্চনাটক করতেন। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা ছিল তার। ২০০৮ সালে দেশে এফএম রেডিওর প্রচলন শুরু হয়। শুরুতে মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি রেডিও স্টেশন ছিল। তখন থেকেই এফএম রেডিও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। উদয় নিজেও ছিলেন এর শ্রোতা। এক সময় ভাবলেন নিজে আরজে হবেন। আবেদন করলেন। ২০১০ সালে কয়েক হাজার আবেদনের মধ্য থেকে সুযোগ পেয়ে গেলেন রেডিও আমার-এ। সেখানেই আরজে হিসেবে পথচলা শুরু। ধাপে ধাপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ওই প্রতিষ্ঠানটিতে হেড অব প্রোগ্রাম হিসেবে কাজ করেছেন ২০১৫ সালের শেষ পর্যন্ত। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে জাগো এফএমে যোগ দেন স্টেশন হেড হিসেবে। সেখানে ভূত স্টুডিও, লাভস্টোরি ও আড্ডা উইথ আরজে উদয় নামের জনপ্রিয় কয়েকটি অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও উপস্থাপনা করছেন। এছাড়া টেলিভিশনেও উপস্থাপনা করছেন। পরিচালনা করেছেন নাটকও।
উদয় বলেন, ‘অনেকে মনে করেন রেডিওর শ্রোতা কমে যাচ্ছে। এ ধারণা ভুল। রেডিও খুবই জনপ্রিয়। শহরের মানুষ সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে ঘরে ফেরার সময় ট্রাফিক জ্যামে বসে থেকে কিছুক্ষণের জন্য হলে রেডিও শোনে। তাছাড়া তরুণরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নিয়মিত শ্রোতা। প্রিয় মানুষটিকে একটা মেসেজ পাঠাতে অনেকে রেডিও শোনেন, লাইভে ফোন করে কথা বলেন।’ ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে অনুভূতির জায়গাটায় একটু বেশি নাড়া দিয়েছে। কারণ প্রথম আরজে হিসেবে এই স্বীকৃতি পেয়েছিলাম, যদিও আজকাল এটি খুব সহজ বিষয়। কিন্তু সেসময় শ্রোতাদের ভালোবাসাই আমাকে এই জায়গাটা করে দিয়েছিল। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। চেষ্টা করবো এই ভালোবাসাকে আগলে রাখতে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা রেডিও কেন্দ্রিক। আমি উপস্থাপনা করি, কথা বলি, আমার কথা শুনে তারা আমাকে ভালোবাসে, এটাই তৃপ্তি। রেডিও একটি জনপ্রিয় ও শক্তিশালী মাধ্যম, একে কাজে লাগিয়ে সামনে আরো ভালো কাজ করতে চাই।’
