গফরগাঁওয়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে অজ্ঞাতনামা এক যুবককে (২৫) হত্যা করেছে একদল দুর্বত্ত। মঙ্গলবার সকালে রেলওয়ে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এই যুবকের লাশ উদ্ধার করে। রেল পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ, রেলপুলিশ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মহুয়া এক্সপ্রেসটি গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। যাত্রাবিরতি শেষে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছাড়ার পরপরই স্টেশনের স্টার্টার সিগন্যালের একটু সামনে রেলওয়ে স্টেশন থেকে ১০০ গজ দুরে রেলওয়ে গোরস্থানের সামনে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে এই অজ্ঞাতনামা যুবককে ফেলে দেয় একদল দুর্বত্ত। গুরুতর আহত এই যুবক প্রায় ৩০ মিনিট রেললাইনের উপর পড়েছিল। খবর পেলেও রেলওয়ে কিংবা রেল পুলিশের কোন লোকজন তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। পাশের জামিয়া মদিনাতুল উলুম আলহাজ্ব আকবর হোসেন কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা আহত এই যুবককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার এই যুবককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। অভাগা এই যুবকের সাথে কেউ না থাকায় কেউ তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেনি। প্রায় বিনা চিকিৎসায় রাত একটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই যুবকের মৃত্যু হয়।
গফরগাঁও রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ মিয়া জানান, নিহত যুবক টোকাই হতে পারে। পরিচয় শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এই ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে কাওরাঈদ, মশাখালী, গফরগাঁও, ধলা ও বালিপাড়া এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিনতাই, ছিনতাই শেষে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে যাত্রীদের হত্যা করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
