বুড়িচংয়ের পদ্মবিল

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৮

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার দক্ষিণ গ্রাম এলাকায় পদ্মবিলে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় বাড়ছে প্রতিদিন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় দর্শনার্থী, নৌকার মাঝিদের বেপরোয়া ফুল ছেঁড়া ও যত্রতত্র নৌকা চালানোয় পদ্মবিলের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বহুস্থান ফুলশূন্য হয়ে গেছে। ফলে শরতের এই সময়ে পুরো বিলজুড়ে ফুলের সমাহার কম। এদিকে বিলে যাওয়ার কর্দমাক্ত রাস্তা ও দর্শনার্থীদের জন্য কোনো ভৌত অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় বৃষ্টিতে ভিজে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

প্রায় ২৫ একরের এই বিলটিতে মে মাসে বৃষ্টির পরপরই ফুল ফোটা শুরু হয়। জুন-জুলাইতে বৃষ্টির পানি যতই বাড়তে থাকে, বিলের পদ্মফুল তখন হাতছানি দেয় ভ্রমণপিপাসুদের। আর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বিলের চারদিকে শুধু লাল, সাদা আর হলুদ পদ্মফুল। দক্ষিণ গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী সামাদ মাস্টার জানান, ব্রিটিশ আমল থেকেই এই বিলে পদ্মফুল ফুটত, তবে খুব সামান্য। স্বাধীনতার পরপর ফুলফোটা বাড়তে থাকে। চলতি শতকের শুরুতে হঠাত্ এই বিলে পদ্মফোটা বন্ধ হয়ে যায়। টানা ১৭ বছর পর ২০১৮ সালে আবার বিলে দেখা মেলে পদ্মফুলের। ২০১৯ সালে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। এসময় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে ‘পদ্মবিল সংরক্ষণ কমিটি’ও গঠিত হয়।

স্থানীয় গ্রামবাসী বলেন, এই বিলটির সমস্ত জায়গা ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও আমরা এর সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে চাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিলের পদ্মফুল ধ্বংস রোধ বা দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসন থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরিশেষে, প্রতি মৌসুমে প্রশাসন থেকে বিলটির দেখভালের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশা করি।

মামশাদ কবীর, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা