এই দিনে

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৪০

২৪  সেপ্টেম্বর

১৯৩২: প্রীতিলতা ওয়াদেদ্দারের মৃত্যু

১৯২৯ সালে ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে আইএ-তে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়ে মাসিক ২০ টাকা বৃত্তি পেয়ে কলকাতা বেথুন কলেজে ভর্তি হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ পাশ ডিস্টিংশনসহ। এরপর চট্টগ্রামের নন্দনকানন অপর্ণাচরণ মধ্য ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয়ে যোগ দেন প্রধান শিক্ষয়িত্রী হিসেবে। ইডেন কলেজে পড়ার সময়ই যুক্ত হন বিপ্লবী সংগঠন ‘দিপালী সংঘ’-র সঙ্গে। চট্টগ্রামে বিপ্লবী দলের চার জন মেয়ে ও অন্য কয়েক জন ছাত্রী নিয়ে একটি চক্র গঠন করেন। ১৯৩২ সালে চট্টগ্রামের বিপ্লবীদের প্রধান কেন্দ্র ধলঘাটের গোপন ঘাঁটিতে সূর্য সেনের সঙ্গে সাক্ষাত্। বিপ্লবীরা চট্টগ্রাম ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ সম্পর্কে মাস্টারদা সূর্য সেন জানিয়ে দেন,  ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেতৃত্বভার প্রীতিলতার ওপর অর্পিত হয়েছে। এই কাজ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বিজয়িনীর বেশে ফেরার সময় আত্মগোপনকারী এক ইংরেজ যুবকের গুলিতে আহত প্রীতিলতা পটাশিয়াম সায়োনাইড খেয়ে আত্মঘাতী হন।

স্বহস্তে লিখিত যে বিবৃতি প্রীতিলতার মৃতদেহের পোশাকের মধ্যে পাওয়া যায়, তার একজায়গায় লিখেছিলেন—‘আমরা দেশের মুক্তির জন্য এই সশস্ত্র যুদ্ধ করিতেছি। অদ্যকার পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ স্বাধীনতাযুদ্ধের একটি অংশ। ব্রিটিশ জোরপূর্বক আমাদের স্বাধীনতা ছিনাইয়া লইয়াছে।...সশস্ত্র ভারতীয় নারী সমস্ত বিপদ ও বাধাকে চূর্ণ করিয়া এই বিদ্রোহ ও সশস্ত্র মুক্তি আন্দোলনে যোগদান করিবেন এবং তাহার জন্য নিজেকে তৈয়ার করিবেন—এই আশা লইয়া আমি আজ আত্মদানে অগ্রসর হইলাম।’

সূত্র :বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান