অতুল তার দাদার বাড়ি বেড়াতে এসেছে। ঢাকার দোহার উপজেলা। বাবার চাকরির কারণে ওরা জামালপুর থাকে। অতুলের বয়স আট বছর। সে ক্লাস টু-তে পড়ে।
এখন শরত্কাল। শরত্কাল হলেও নদী, খাল, বিল সব জলে ভরপুর। দাদার বাড়ির পাশে আছে এক বিশাল বিল। শাপলা, শালুক জলের ওপর হাসছে খলখল করে। গ্রামে এলে তার খুব মজা হয়। চাচাত ভাইবোন সবাই মিলে নানা খেলায়, গল্পে মেতে থাকে। কয়েক বছরের ছোট বড়ো সবাই। মিলটাও তাই অনেক বেশি। সবুজ মাঠে ছুটে বেড়ায় সকলে। ডাঙ্গুলি, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট নানা খেলায় দিন কাটে তাদের।
অতুলের ছোট চাচা রাসেল। তিনি কলেজে পড়েন। ওদের বন্ধুর মতো। আজ সবাই বায়না ধরেছে কলার ভেলায় চড়বে। শাপলা বিলে ভাসবে। যা হুকুম বাচ্চাদের, চাচা তা-ই করলেন।
সবাই নাচতে নাচতে গেল ভেলার কাছে। একে একে উঠে পড়ল। মোট ছয় জন উঠল। চাচা বললেন, এই শোন, তোমরা বেশি লাফাবে না কিন্তু। আমরা অনেকটা পথ যাব। শাপলা তুলে ভাজি করে খাব আজ। কেমন হবে বলো তো?
সবাই চিত্কার শুরু করল। দারুণ মজা হবে চাচ্চু। খুশিতে আজ সবাই গুলুগুলু। কেউ পানি নাড়ছে, কেউ টেনে টেনে শাপলা তুলছে, কেউ জল ছিটাচ্ছে। অতুল বলল, আস্তে আস্তে। আমি ভয় পাচ্ছি। এত নড়ছ কেন সবাই! ওরা সবাই হিহি করে হেসে উঠল। আরো বেশি করে দুষ্টুমি করতে লাগল। ভেলা তখন দুলতে লাগল। চাচ্চু নিষেধ করলেন, কিন্তু বাচ্চারা শুনল না। এমন অবস্থায় ভেলা উল্টে পানিতে সবাই পড়ে গেল। অতুল ছাড়া সবাই সাঁতার জানত। পানি থেকে সবাই উঠে এল পাড়ে। অতুল পানিতে হাবুডুবু খেতে লাগল। অতুলের চাচা অনেক চেষ্টা করে ওকে পাড়ে তুললেন। পেটে কিছুটা পানি গেছে। তিনি পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করার চেষ্টা করলেন। পানি বেরিয়ে এল মুখ থেকে। অতুল কাশতে থাকল। ওর ভাইবোনেরা সবাই ভয় পেয়ে গেল। বুঝতে পারল কাজটি তাদের ঠিক হয়নি। এমন মজা করা ঠিক না যাতে বিপদ হতে পারে। সবাই দোষ স্বীকার করে নিল। অতুল অবশেষে উঠে দাঁড়াল। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করল। সবাই অতুলের কাছে ক্ষমা চাইল। ওকে সাহস দিল। ওদের চাচ্চু বললেন, দেখছ আজ কী হলো? এজন্য সকলের সাঁতার শেখা চাই। অতুল তুমি ভেবো না। আমি কাল থেকে তোমাকে সাঁতার শেখাব।
অলঙ্করণ :সায়মা আহাদ খান
সপ্তম শ্রেণি, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা
