আপনি লাজুক লজ্জাবতী পাতার মতো স্পর্শকাতর!
ঘোরলাগা সন্ধ্যা, দ্বিধা থরো থরো হূদয়ের স্পর্শে পরশ পাথর,
চেতনায় ফুটে থাকে বৃষ্টিভেজা স্নিগ্ধ কামিনীফুলের কাম-আতর!
আপনি ধানসিঁড়ি ছুঁয়ে যাওয়া নত নুয়ে থাকা নম্র হিজল
মৃদু বাতাসে কাঁপে কি পাতা, কাঁপে কি জল,
কাঁপে কি শিহরিত জলের ছায়া, জল ছলছল, ছলছল, ছলছল...
আপনি কম্পমান চাফুলের মতো নিঃসঙ্গ চমত্কার,
আপনি অগ্নিকন্যা, আলোকিত কিন্তু চারপাশে অন্ধকার;
মনে খোলা জানালা আর দেহে বন্ধ দ্বার!
আপনি বর্ণিল পাতাবাহারের মতো বহুমাত্রিক, কালারফুল
অথচ ভেতরে মন ছুঁই-ছুঁই তীব্র আবেশে তুমুল হুলুস্থুল
আশ্চর্য অস্থিরতা, বনজ ফণীমনসার কাঁটায় ফুটে থাকা মনোজ ফুল।
আপনি গহিন অরণ্যে অসূর্যম্পশ্যা পাতার আড়ালে প্রত্ন,
‘আমার মল্লিকা বনে, যখন প্রথম ধরেছে কলি’, কেউ নেয়নি যত্ন!
অথচ পাতার আড়ালে পাখিপ্রেম, লুকানো তিলের মতো অমূল্য রত্ন!
আপনি আশালতার নিবিড়তায় জড়িয়ে থাকা স্বপ্নের স্বর্ণলতা,
অনুবাদ হয়নি কত অপ্রকাশিত বাকবাকুম রোমান্টিকতা!
বাতাসে নৃত্য কুমড়োলতার একাকীত্বের কুমারী আনন্দ; নীরবতা।
আপনি নিশিবৃক্ষের ঝরা নক্ষত্র; বৃষ্টিভেজা শাদা শাদা বকুল ফুল
গন্ধে এলোমেলো জোছনায় অনূদিত একগুচ্ছ বেদনা; একটি ভুল
একটি অলৌকিক স্পর্শের অপেক্ষায় থাকা একটি প্রাচীন গন্ধমফুল!
