মনপুরায় ব্যবসার আড়ালে কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ, টাকা ফিরে পেতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:২০

ভোলার মনপুরায় মার্কেটিং ব্যবসার আড়ালে নিম্ন আয়ের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের দ্বিগুন লাভের লোভ দেখিয়ে কোটি টাকা টাকা আমানত সংগ্রহ করছে ইনসাফ মার্কেটিং কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। উপজেলার হাজিরহাট, ফকিরহাট ও বাংলাবাজার শাখা অফিস খুলে তিনশ, পাঁচশ ও একহাজার টাকা মাসিক কিস্তিতে দুই বছর ও তিন বছর মেয়াদী ডিপিএসের নামে আমানতের টাকা সংগ্রহ করেছে ওই মার্কেটিং কোম্পানিটি। গ্রাহকদের ডিপিএসের মেয়াদ ছয় মাস থেকে বছর পেরিয়ে গেলেও ৮ থেকে ১০ বার ইনসাফের ফকিরহাট অফিসে গিয়ে আমানতের টাকা পাননি শতাধিক গ্রাহক। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময়ে কোম্পানিটি গ্রাহকদের আমানতের টাকা মেরে চলে যেতে পারে।  

গত বুধবার বিকালে গ্রাহকরা আমানতের টাকা ফিরত পেতে বিক্ষোভ করলে অফিস তালাবন্ধ করে অফিসের দায়িত্বে থাকা শামীম মাস্টার পালিয়ে যান। পরে নারী গ্রাহকরা ওই অফিসের দায়িত্বে থাকা শামীম মাস্টারের বাড়িতে গেলে তিনি দেখা করেনি। 

মুঠোফোনে শামীম মাস্টার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বুধবার গ্রাহকদের আমানত ফিরিয়ে দেওয়ার কথা থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ না আসায় টাকা দিতে পারিনি।

এদিকে বুধবার বিকালে বিক্ষোভ চলাকালে গ্রাহক অসুরা খাতুন, তাজরা বেগম, অহিদা বেগম, শাহজাহান, আল-আমিনসহ শতাধিক গ্রাহক জানান, ‘আমরা খাইয়া না খাইয়া ডিপিএস টাকা শামীম মাস্টারের কাছে দিছি। ডিপিএস এর মেয়াদ ৬ মাস শেষ হইয়া গেছে কিন্তু ওরা কোন টাকা দেয়না। আজ ( বুধবার) শেষ তারিখ ছিল কিন্তু অহন অফিসে আইসা দেখি তালা মারা।’ 

জানা যায়, ইনসাফ মার্কেটিং লিমিটেড প্রথমে রিমটাচ নামে অফিস খুলে। পরে খেটে খাওয়া মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দ্বিগুণ লাভের লোভ দেখিয়ে ডিপিএস এর নামে আমানত সংগ্রহ করে।  কোম্পানিটি মানুষদের কিস্তিতে ফ্রিজ, জাল, সেলাই মেশিন, খাট বিক্রি নামে ভিতরে ভিতরে ডিপিএস এর নামে আমানত সংগ্রহ করছে।

এই ব্যাপারে হাজিরহাট মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন জানান, ইনসাফ মার্কেটিং কোম্পানি লিমিটেডের আমানত সংগ্রহ করার সরকারি অনুমতি আছে কিনা। যদি অনুমতি না থাকে তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা নাহলে যে কোনো সময় গ্রাহকদের আমানতের টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে পারে কোম্পানিটি। এতে ক্ষতির মুখে পড়বে উপকূলের সাধারন মানুষ। একই দাবি করছেন স্থানীয়রা।

এই ব্যাপারে ইনসাফ মার্কেটিং কোম্পানি লিমিটেডের মনপুরা উপজেলা দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাও.মহিবুল্লাহ জানান, আমরা মার্কেটে কিস্তিতে পণ্য বিক্রি করেছি। এতে করোনার জন্য টাকা উঠাতে পারেনি। গ্রাহকদের পাওনা টাকা দিয়ে দিবো। কিন্তু মাসিক তিনশ, পাঁচশ ও একহাজার টাকা কিস্তিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছেন এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

ইত্তেফাক/এসি