দেশে গত মার্চ থেকে করোনা রোগী বাড়তে থাকায় মানুষের মধ্যে করোনারোধী বিভিন্ন সামগ্রীর ব্যবহারও বাড়তে থাকে। বিশেষত মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লাভস, পিপিই—এজাতীয় সরঞ্জামের ব্যবহার বেড়ে যায়। দাম ভোক্তার নাগালের মধ্যে রাখতে গত মার্চের ২২ তারিখ থেকে এজাতীয় পণ্যের কাঁচামাল ও সরঞ্জামের ওপর আমদানি শুল্কসহ অন্যান্য শুল্ক প্রত্যাহার করে সরকার। এর ফলে আমদানি বেড়ে গেছে ব্যাপক হারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত মার্চ থেকে সর্বশেষ ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ছয় মাসে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রীর কাঁচামালের আমদানি বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় চার গুণ। গত ১ মার্চ থেকে সর্বশেষ ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধসামগ্রীর কাঁচামাল আমদানি হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৬১ মেট্রিকটন। আর ২০১৯ সালের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭১ মেট্রিকটন। আর ২০১৮ সালের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৭৪ মেট্রিকটন। অর্থাত্, করোনায় ব্যবহার বাড়ায় এসব পণ্যের কাঁচামালের আমদানি বেড়েছে প্রায় চার গুণ।
আমদানি করা এসব কাঁচামালের মধ্যে রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কাঁচামাল প্রপি ওয়ান অ্যালকোহল ও ইসোপ্রপি ওয়ান অ্যালকোহল, পিপিই তৈরির বিভিন্ন ধরনের সুতা ও কাপড়, মাস্ক তৈরির কাঁচামাল। ব্রেথিং অ্যাপ্লায়েন্স ও গ্যাস্ক মাস্ক, চিকিত্সায় ব্যবহূত বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ও কাঁচামাল, বিভিন্ন ডিজইনফেকশন সামগ্রী, ডায়াগনস্টিক বা ল্যাবের রিএজেন্ট এ তালিকায় উল্লেখযোগ্য। জানা গেছে, এসব কাঁচামাল ও সরঞ্জামের শুল্ক-করের পরিমাণ ছিল ৩০ শতাংশ থেকে ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত। এর মধ্যে আমদানি শুল্ক ছাড়াও সম্পূরক শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, ভ্যাট, আগাম কর (এটি), অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ছিল। এসব কাঁচামালের বেশির ভাগের ওপরই শুল্ক-কর প্রত্যাহার করা হয়। অবশ্য করোনারোধী এসব পণ্যে শুল্ক কমানো কিংবা প্রত্যাহার করা হলেও ভোক্তা পর্যায়ে এই সুবিধা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং এসব শুল্ক ছাড়ের সুবিধা আমদানিকারক ও উত্পাদনকারীদের পকেটেই গেছে বলে ভোক্তাদের অভিযোগ। বাজারে করোনার আগে এ ধরনের পণ্যের যে দাম ছিল, বিপুল শুল্ক অব্যাহতির পরও দাম কমেনি বলে জানা গেছে।
