ধামরাইয়ে হচ্ছে সবজি সংরক্ষণাগার

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৩৯

সবজির উপজেলা হিসেবে পরিচিত ঢাকার ধামরাই। সারা বছর জুড়েই এখানে প্রচুর পরিমাণ সবজি উত্পাদিত হয়। সবজির ভরা মৌসুমে এখানে সবজির উত্পাদন ও সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকায় দাম খুব কমে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ সবজি অবিক্রিত অবস্থায় নষ্ট হয়ে যায়। এতে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এতে তাদের মোটা অংকের লোকসান গুণতে হয়। ধামরাইয়ে এ অবস্থা চলে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। তাই এলাকার চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘সবজি সংরক্ষণাগারের’। ক’দিন আগেও এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বিষয়ে আমিও একমত। সবজির অপচয় ও চাষিদের লোকসান ঠেকাতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

এদিকে সবজির পচনজনিত অপচয় ও চাষিদের লোকসান ঠেকাতে ইতোমধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপজেলার দুই অঞ্চলে (সবজি অধ্যুষিত এলাকায়) পরীক্ষামূলকভাবে ‘সবজি সংরক্ষণাগার’ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ইফাদ এবং পিকেএসএফ-এর সহযোগিতায় বেসরকারি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা এসডিআই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বলে জানা যায়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাসনায় ধামরাই-সাটুরিয়া রাস্তার পাশে এবং রোয়াইল ইউনিয়নের খরারচরে দুইটি সংরক্ষণাগার স্থাপনের কাজ চলছে। পরবর্তীতে সারা দেশেই এ ধরনের সবজি সংরক্ষণাগার স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংরক্ষণাগার দুইটির ধারণ ক্ষমতা হবে যথাক্রমে ৮ টন ও ৪ টন। এখানে সবজি রাখা হলে ৩০-৪০ দিন পর্যন্ত এর গুণগত মান ও চেহারা অপরিবর্তিত বা সতেজ থাকে। গাজর এবং কাঁচা টমেটো ভালো থাকে ৬০-৭০ দিন পর্যন্ত। আম সংরক্ষণ করা যায় ২০-২৫ দিন পর্যন্ত। সংরক্ষণের জন্য কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। গুণগত মান ঠিক রাখতে প্রি-কুলিং চেম্বারে ৩-৬ ঘণ্টা রেখে সবজি গুলোকে মূল চেম্বারে ঢুকাতে হয়। আবার সংরক্ষিত সবজি বের করার আগে পোস্ট কুলিং চেম্বারে ৩-৬ ঘণ্টা রেখে স্বাভাবিক পরিবেশে বের করতে বা বাজারজাত করতে হয়।