আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে হেরে গেলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন কি না সেই প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে আমাদের দেখতে হবে কী ঘটছে।
আধুনিককালে যত মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরাজিত হয়েছেন, তারা সবাই পরাজয় মেনে শান্তিপূর্ণভাবেই ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। এখন ট্রাম্প পরাজয় মানতে অস্বীকৃতি জানালে নজিরবিহীন সংকটে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র। এই সংকটের উত্তরণ কীভাবে সম্ভব হবে—সেটা এখনই স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না। তবে ট্রাম্পের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন। এমনকি ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন তার দলের অনেক নেতাও। কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে মার্কিন গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে। খবর সিএনএন ও বিবিসির।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকযোগে কাস্ট হওয়া ভোটের ব্যাপারে সন্দেহের কথা আবারও প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি বিশ্বাস করি—করোনা মহামারির কারণে ডাকযোগে ভোটের সংখ্যা বেশি না হলে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো দরকার হতো না। ডেমোক্র্যাটরা অন্যদের চেয়ে বেশি জানেন যে, ডাকযোগে ভোট নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প আগেও বলেছেন, তিনি নির্বাচনের ফলাফল দেখেই বলতে পারবেন যে ক্ষমতা ছাড়বেন কি না। তখন জো বাইডেন বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নামাতে সেনা মোতায়েন করা হতে পারে।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন হওয়ায় অনেক ভোটার সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার চেয়ে ডাকযোগে ভোট দিতে আগ্রহী। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে ভোট শুরু হয়েছে। এই ভোটের ব্যাপারে সন্দিহান ট্রাম্প। সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে তিনি সমর্থকদের দুবার ভোট দেওয়ার পরামর্শ দেন। যদিও ট্রাম্পের এই সন্দেহের কোনো কারণ নেই বলে মনে করছেন দেশটির নির্বাচন বিশ্লেষকরা।
অনেকের আশঙ্কা ডাকযোগে ভোটের কারণে ফলাফল আসতে দেরি হলে ঝামেলা তৈরি করতে পারেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগেও ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনিই নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন বলেন, তিনি অত্যন্ত অযৌক্তিক বলেছেন। ডেমোক্র্যাট দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে কোনো অনাধিকার প্রবেশকারীকে হোয়াইট হাউজ থেকে বের করে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সম্পূর্ণভাবে সক্ষম।
ট্রাম্পের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি। তিনি বলেছেন, সংবিধানের মূলনীতির ব্যাপারে যে কোনো দ্বিধা অভাবনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর, এছাড়া যা হয় তা বেলারুশে হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর সিএনএনের এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার কারণে গণতন্ত্র হুমকিতে আছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গণতন্ত্র সংজ্ঞায়িত হয় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়তো অন্য কোনো পরিকল্পনা রয়েছে। তার বক্তব্য একটি হুমকি। একটি সতর্ক বার্তা। যারা নিজেদের দেশপ্রেমিক বা সংবিধানের রক্ষক মনে করেন তাদের সবার এই বক্তব্যের নিন্দা করা উচিত।
সিএনএনের অপর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মাধ্যমে তার সমর্থকদের একধরনের সংকেত দেওয়া হয়েছে। জো বাইডেন জয়ী হলে সমর্থকরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তারই সংকেত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা সত্যিই বিপজ্জনক হতে পারে।
ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত
রিপাবলিকান নেতার
এদিকে নির্বাচনে হেরে গেলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে অনাগ্রহ দেখালেও তার দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা মিচ ম্যাককনেল গতকাল টুইটারে এক বিবৃতিতে বলেছেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তা রিপাবলিকান পার্টির বিরুদ্ধে গেলে সুষ্ঠভাবেই ক্ষমতা হাতবদল হবে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। ম্যাককনেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রত্যেক পরাজিত প্রার্থী বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দেন। রিপাবলিকান পার্টি আসন্ন নির্বাচনে হেরে গেলে এবারো তার ব্যত্যয় ঘটবে না। একই ধরনের কথা বলেছেন, আরেক রিপাবলিকান নেতা সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি বলেন, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, ট্রাম্প পরাজিত হলে ক্ষমতা হস্তান্তর শান্তিপূর্ণ হবে।
