সৈয়দপুরে উত্পাদিত সয়া এখন গরিবের প্রধান বিকল্প সবজি

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৮

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

সৈয়দপুরে উত্পাদিত বিকল্প সবজি সয়ার চাহিদা এখন বাড়ছে। প্রতি বছর প্রায় তিন কোটি টাকার এ সবজি দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ হচ্ছে। স্বল্প দর, কেমিক্যাল মুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় গরিবের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে কৃত্রিম এ সবজিটি এখন প্রধান খাদ্যতে পরিণত হচ্ছে। পাশাপাশি রসনা বিলাসীসহ বিত্তশালীদের কাছে এটির কদর শুরু হয়েছে। কেমিক্যাল আগ্রাসনের যুগে চিকিত্সকরা নির্ভর হয়েছেন পণ্যটিতে।

জানা যায়, ভারতে প্রচলিত সবজি সয়া গ্রহণযোগ্যতার কারণে এ শহরের ব্যবসায়ীরা আমদানি করে সারাদেশে বাজারজাত করতো। পরে চাহিদা বাড়তে দেখে ২০১১ সালে সৈয়দপুরের আহমেদ ফুড প্রডাক্ট মেশিন বসিয়ে শুরু হয় সয়া বড়ির উত্পাদন। এতে আমদানির চেয়ে স্বল্প ব্যয়ে এটি উত্পাদনের পর বাজারজাত লাভজনক দেখে অন্যান্য ব্যবসায়ীরা শুরু করেন। এভাবে পাঁচটি ফ্যাক্টরিতে চলছে সয়া উত্পাদন।

ভাই ভাই ফুড প্রডাক্টস ম্যানেজার রাজন জানান, সোয়া তৈরির উপকরণ হিসেবে ডিওসি বা সয়াবিন বীজ ভাঙা, সামান্য সুজি ও পরিমাণ মত অ্যামোনিয়া ও পানির মিশ্রণ দিয়ে মেশিনের সাহায্যে এটি তৈরি হয়। তাই এ সবজি শতভাগ নির্ভেজাল। পাশাপাশি মাংসের মত সুস্বাদু ও সামান্য দরে মেলায় সকল শ্রেণির মানুষ এটি খাদ্য হিসেবে কিনছে।

খাজা ফুড প্রডাক্টের স্বত্বাধিকারী হাজি হায়দার আলী জানান, শীতকালে প্রচুর সবজি সরবরাহ হওয়ায় সয়ার চাহিদা কম থাকে। বাকি সময়ে উত্তরাঞ্চলের বাজার ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, কুমিল্লা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, যশোরসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বাজারে যায় সয়া খাদ্য। এতে বছরে ৪০ হাজার কেজি সোয়া সবজি সরবরাহ হয়। যার মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

সৈয়দপুর শহরের রিকশাচালক খোকন, দুলাল, আমিনুল, রতন, মিস্টারসহ অন্যান্য দিনমজুরেরা জানান, ১০০ গ্রাম সয়া সাত টাকায় কিনে একটি পরিবারের তরকারির যোগান হয়। তাই বিকল্প এ সবজিটি আমরা প্রতিদিনই কিনছি। মাংসের মতো স্বাদ হওয়ায় আমাদের পরিবারে সকলের কাছেই এটি এখন প্রিয় সবজিতে পরিণত হয়েছে।

ভারতীয় নিউট্রিশনাল রিসার্চ ল্যাব সূত্রে জানা যায়, প্রতি কেজি সয়াতে শতকরা ২৩ ভাগ মাংস, ১৩ ভাগ ডিম, ১১ ভাগ গম, ৪ ভাগ দুধ ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে ৫৫ ভাগ। আবার পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে ৪৪০ কিলো ক্যালরি এনার্জি, ৫৩-৫৬ গ্রাম প্রোটিন, ফ্যাটলেজ ১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৪০ গ্রাম, আয়রন ২১৪ ও কার্ব হাইড্রেড ৩৫-৩৭ গ্রাম রয়েছে এ খাদ্যে।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ওয়াসিম বারী জয় জানান, আমাদের সুস্থতার জন্য দৈনন্দিন যে খাদ্য গ্রহণ দরকার তা আমরা বিভিন্ন কারণে গ্রহণ করতে পারি না। তাই স্বল্প দর ও প্রাকৃতিক গুণ সমৃদ্ধ সয়াবিন বীজের তৈরি বিকল্প ও কৃত্রিম সবজি সয়া এদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ অবদান রাখছে।

তিনি আরও বলেন, এর মান নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণে বিএসটিআইকে মনিটরিং করা উচিত এবং বিকল্প সবজি হিসেবে প্রচার চালালে সকলের মধ্যে আরও গ্রহণযোগ্যতা বাড়তো।