চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে পূর্বের ধারণার চেয়ে বেশ কিছুটা কম। কিন্তু তা ‘অভূতপূর্ব’ থাকবে ঠিকই—এসব জানিয়েছে দ্য অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) নামক শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাটি। তদের বর্তমান পূর্বানুমান অনুযায়ী ২০২০ সালের অর্থনৈতিক সংকোচন হবে আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কম। অথচ জুন মাসে করা ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে তা ছিল ৬ শতাংশ। এজেন্সির দেওয়া তথ্য বলছে, জি টুয়েন্টি দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য এখন আর সবচেয়ে বেশি সংকোচনের মুখোমুখি হবে না। তবে যে হারে সংকুচিত হবে, তাতেই যুক্তরাজ্য হবে কঠোরতর আঘাত সওয়া দেশগুলোর একটি। জুনে করা হিসাব অনুসারে যুক্তরাজ্যের সংকোচনের হার ছিল ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ।
এজেন্সির প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স বুনের মতে, পূর্বানুমানের সংশোধন হতাশা কিছুটা কমিয়েছে সত্য, কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনীতি এতটা ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে আর দেখা যায়নি এবং এ বিষয়টি এখন আর কোনো কিছু দিয়ে ঢাকার উপায় নেই। এজেন্সির দেওয়া সংশোধিত রাশিগুলো জানান দিচ্ছে ইতালি, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো যুক্তরাজ্যের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক সংকোচনের সম্মুখীন হবে।
ওইসিডি জানিয়েছে, সরকারগুলোর উচিত হবে অর্থনীতিকে করা সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত রাখা। সেইসঙ্গে অকালীন আয়ব্যয়সংক্রান্ত কষাকষি পরিহার করতে হবে, কেননা অর্থনীতিসমূহ এখনো অস্থির। ওইসিডির দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী বছর বিশ্ব অর্থনীতি কিঞ্চিত হলেও ঘুরে দাঁড়াবে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রসঙ্গে ওইসিডির প্রধান অর্থনীতিবিদের অভিমত, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২১ সাল শেষে অর্থনৈতিক ক্ষতির অঙ্কটা যা হবে, সেটি শোনার পর নিঃসন্দেহে সবাই বিস্মিত হবে আর সেই সত্যটি হচ্ছে, অঙ্কটি ফ্রান্স ও জার্মানির সমন্বিত বার্ষিক মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) মোট মূল্যকেও হার মানাবে। অতএব বিশ্বের অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে আরো অনেকটা সময় লাগবে এবং সেটি ঠিক কবে ঘটবে তা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।
—বিবিসির তথ্যানুসারে
