আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা
আগৈলঝাড়ার দুস্থ মানবতা হাসপাতালে এক প্রসূতির রক্তের গ্রুপ ভুল নির্ণয়সহ অন্যান্য ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে ভুল চিকিত্সার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনেরা।
জানা যায়, উজিরপুর উপজেলার কুড়ুলিয়া গ্রামের হানিফ খলিফার স্ত্রী শারমিন বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে ৫ জানুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের বাইপাস মোড়ের ফুল্লশ্রী এলাকায় দুস্থ মানবতা প্রাইভেট হাসপাতালে আসেন। মোঃ আশরাফুল ইসলাম শাওন (ডিএমএফ) ওই রাতেই রোগীর সিজারিয়ান অপারেশনের কথা বলেন। রোগীর স্বজনদের সাথে ১১ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তিতে অপারেশনের মাধ্যমে শারমিন দ্বিতীয় পুত্র সন্তানের মা হন। সিজার শেষে তাকে বেডে দেয়া হয়। ৮ জানুয়ারি রক্তের প্রয়োজনে রোগীর রক্তের গ্রুপ নির্নয় করে এ(+) বলে রিপোর্ট দেয়া হয়। ওই একই রিপোর্টের সঙ্গে রোগীর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ওই টেকনোলজিস্ট এইচআইভি রিপোর্ট (নেগেটিভ)সহ একাধিক রিপোর্টের ফলাফল দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়।
পরদিন ৯ জানুয়ারি রোগির স্বজনেরা শারমিনের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও রক্তের ক্রস ম্যাচিংয়ের জন্য গৌরনদীর সিকদার ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে যান। ওই সেন্টারের টেকনোলজিস্ট রোগীর রক্তের গ্রুপ বি(+) বলে রিপোর্ট দেয়। রোগীর স্বজনেরা তাকে বি(+) গ্রুপের রক্ত প্রদান করে। এ নিয়ে দুস্থ মানবতা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে রোগীর স্বজনদের বাকবিতণ্ডা হয়।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক উপ-পরিচালক ও দুস্থ মানবতা হাসপাতালের পরিচালক ডা. হিরন্ময় হালদার (অবঃ) ফোনে জানান, ঘটনা নিয়ে রোগী ও তার স্বজনদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কথিত চিকিত্সক আশরাফুল কোনো রোগী ভর্তি করতে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তিনি পারেন না। এজন্য তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। ওই হাসপাতালে এইচআইভি পরীক্ষা হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এখানে এই টেস্ট হয় না। তবে কিভাবে এইচআইভি টেস্ট রিপোর্ট দেয়া হয়েছে; জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মানোয়ার হোসেন জানান, রোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে অবশ্যই তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
