লোহাগড়া (নড়াইল ) সংবাদদাতা
লোহাগড়ায় গ্রাম্য কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে উপজেলার পার-মল্লিকপুর গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার দীর্ঘ আট মাস ধরে বাড়ি যেতে পারছেন না। ভুক্তভোগী এসব পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন বাড়ি ও বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে বসবাস করছেন। একটি হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে আসামিপক্ষের দুই শতাধিক বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে এসব পরিবারের মূল্যবান জিনিসপত্র।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পারমল্লিকপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হেমায়েত হোসেন হিমু ও উজ্জ্বল ঠাকুর গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ২০১৮ সালের ২১ এপ্রিল সংঘর্ষে উজ্জ্বল ঠাকুর গ্রুপের সমর্থক খায়ের মৃধা নিহত হন। খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উজ্জ্বল ঠাকুরের লোকজন আসামিপক্ষ হেমায়েত হোসেন হিমু গ্রামের লোকজনের ওপর অত্যাচার শুরু করে। হিমু পক্ষের সমর্থকদের অন্তত দুই শত বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। খুলে নেওয়া হয়েছে জানালা, দরজাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। ক্ষতিগ্রস্তপক্ষের মাতুব্বার হেমায়েত হোসেন হিমু জানান, তাদের পক্ষের মজিবর মৃধা, তজিবর মৃধা, নূর ইসলাম মৃধা, রাসেল মৃধা, মুক্তার মৃধা, নাইম মুসল্লী, ইকবাল মৃধা, হুমায়ুন মৃধা, কায়েম মৃধা, ওলিয়ার শেখ, খোকন মুসল্লি, তবিবর মোল্যাসহ ১৮টি পরিবারের পাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাদশা মৃধা, লুত্ফর মৃধা, হোমেত মৃধা, বিপ্লব শেখ, লিটু শেখ, হেমায়েত হোসেন হিমু, রাজা মৃধা, জামাল মোল্যা, এনায়েত মোল্যা, আমিনুর রহমান বাবলু, মজিবুর রহমান শেখ, নান্নু শেখ, শুকুর শেখ, সামাদ শেখ, হোসেন শেখ, টফি শেখ, সোহরাব শেখ, এরশাদ শেখ, নাজির মৃধা, পান্নু মৃধা, ইলিয়াস মৃধা, হাই শেখ, বালাম শেখ, সাহিদ কাজী, ওলিয়ার রহমান কাজী, আকরাম মুন্সী, রিজ্জাক মুন্সী, হাসান বিশ্বাস, রেজাউল বিশ্বাস, জলিল শেখ, কাফী মৃধা, মফিজ মৃধা, ইকরাম মৃধা, খোকন মুসল্লী, আব্দুল্লাহ সরদার, আকরাম সরদার, লাহু মুন্সী, আনোয়ার গাজী, দবির উদ্দিন শেখ, কামাল মোল্যা, আছলাম মোল্যা, ইউনুছ কাজী, হামিম কাজী, রাজা মিয়া, হিরু শেখ, হাসান শেখ, সুমন শেখ, রবিন শেখ, ছিকুল মোল্যাসহ অন্তত সাতটি আধা পাকা বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মো. ওহিদুজ্জামান জানান, খায়ের মৃধা হত্যকাণ্ডের পর শিশু থেকে বৃদ্ধরা পর্যন্ত গ্রাম ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও শহরে বাসা ভাড়া করে থাকছে। কোটি কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ নষ্ট করেছে। অনেকের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে। তারা আর্থিক অস্বচ্ছলতায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অপর পক্ষের মাতুব্বার অভিযুক্ত উজ্জ্বল ঠাকুর বলেন, ‘২০১৬ সালে হেমায়েত হোসেন হিমু গ্রুপের নূর ইসলাম ও ইকবাল মৃধা খুন হয়। তখন আমাদের পক্ষের বাড়িঘর ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিল। এবার আমাদের পক্ষের খায়ের মৃধা মার্ডার হওয়ার পর আমাদের লোকজন ওদের কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। উভয়পক্ষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে সে জন্য লোহাগড়ার থানার ওসি সাহেব আমাদের ডেকেছিল। আশা করা যায়, ঝামেলা মিটে যাবে’।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে দুই পক্ষকে ডেকে মিলেমিশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
