ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রী হেনস্তার মীমাংসার টাকা লোপাটের অভিযোগ

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪১

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল  (ভেটেকুল) ইসলামের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মীমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান সোহাগের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ ডিসেম্বর দুপুরে মোহাম্মদপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটির পরে ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে ডেকে নেয় প্রধান শিক্ষক। এ সময় ছাত্রীকে হেনস্তা করে ওই প্রধান শিক্ষক। ভুক্তভোগী ছাত্রী ঘটনাটি তার পরিবারকে জানালে পরে আস্তে আস্তে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি অবগত হলে ছাত্রীর পরিবার ও প্রধান শিক্ষককে চাপ সৃষ্টি করে মীমাংসার জন্য।

মেয়েটির বাবা বলেন, প্রথমে বাড়িতে কয়েকজন সাংবাদিক আসে। পরে চেয়ারম্যান পরিষদে  ডেকে দুই লাখ টাকায় মীমাংসা করে দেয়। ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে আর ২০ হাজার টাকা দিতে চাইছে। গরীব মানুষ অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাই। আর বিশেষ কিছু বলতে পারব না। চেয়ারম্যানের বিপক্ষে কেমনে যাব? পরিষদে মীমাংসার সময় উপস্থিত নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, আমি গরীব মানুষ কোনো সমস্যায় যেতে চাই না। পরিষদে শিশু নির্যাতনের মীমাংসায় উপস্থিত ছিলাম, চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে সেই শিক্ষকের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ও আপসনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে আমিও স্বাক্ষর করেছি। সব টাকা মেয়ের বাবা পায়নি। চেয়ারম্যান সাহেব ও তার লোকজন ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। ভুক্তভোগী এক স্বজন বলেন, স্কুলে একটু সমস্যা হয়েছিল। চেয়ারম্যান পরিষদে সমাধান করে দিয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আর কিছু বলতে চাই না।

ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকায় ভুল বুঝাবুঝির একটি ঘটনা ঘটেছিল। যা দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা সমাধান করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে মীমাংসা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল মুঠো ফোনে জানান, ঘটনাটি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান জোরপূর্বক মীমাংসা করে দুই লাখ টাকা নিয়েছে। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, শিশু হেনস্তার বিষয়ে অবগত নই। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।