সক্রিয় মৌসুমি বায়ু বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:২৫

মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হচ্ছে। আরো দুই-এক দিন এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে। এরপর বৃষ্টির প্রবণতা হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

এদিকে আজ শনিবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গা এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ডিমলায় ১৭৮ মি.মি.। এছাড়া সীতাকুণ্ডে ১৪৬ মি.মি.; তেঁতুলিয়ায় ১১৯ মি.মি.; সৈয়দপুরে ৯৫ মি.মি.; দিনাজপুরে ৭২ মি.মি.; চট্টগ্রামে ৯৮ মি.মি.; সন্দ্বীপে ৭৬ মি.মি.; রাঙ্গামাটিতে ৫৭ মি.মি.; মোংলায় ৪৩ মি.মি.; বরিশালে ৯ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 মোংলায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, মোংলা বন্দরে গতকাল শুক্রবারও তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল ছিল। এর ফলে মোংলা বন্দরসহ সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা জুড়ে দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। এ এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সতর্ক সংকেত বলবত্ থাকায় গত কয়েক দিন ধরে বন্দরে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহনের কাজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। শুক্রবার বন্দরে সার, ক্লিংকার, মেশিনারী, পাথর ও গ্যাস বিভিন্ন পণ্যবাহী ১০টি জাহাজের অবস্থান রয়েছে।

এদিকে বন্দরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত হারবার মাস্টার প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন) কমান্ডার জাহিদুর রহমান। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া নৌকা ও ট্রলার নিরাপদে ফিরে এসে উপকূলের কাছাকাছি নদী খালসহ মোংলার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছে।