লাভ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
কমলনগরে আমন ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষক হতাশ। তার উত্পাদিত ফসলের লাভ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের পকেটে। অপরদিকে দায়-দেনায় জর্জরিত কৃষক ফসল উত্পাদনে বিমুখ হয়ে পড়ছে।
চর ফলকন গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, আগে আমি ১০ একর জমিতে আমন ফসল উত্পাদন করতাম, এখন পারিবারিক খোর-পোষের জন্য মাত্র ৮০ শতক জমিতে ধান উত্পাদন করি। কারণ হিসেবে বলেন, ফসল ফলাই লাভের আশায়, সেই ফসল যদি দায়-দেনা, ঋণ এবং সুদের ফাঁস হয়ে মরণ দশা হয়।
২০১৮-১৯ আমন মৌসুমে এ উপজেলায় বাম্পার ফলন হায়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, গেল মৌসুমের তুলনায় এ মৌসুমে ২,১২০ মেট্রিক টন চাল বেশি উত্পাদিত হয়েছে। অফিসের হিসাব অনুযায়ী প্রতিমণ চালে কৃষকের উত্পাদন খরচ পড়েছে ১০৪৭ টাকা। সরকার চালের মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা। হিসাবমতে প্রতিমণ চালের মূল্য দাঁড়ায় ১,৪৪০ টাকা। চাল সরাসরি কৃষক সরকারের নিকট বিক্রয়ের সিস্টেম না থাকায়, কৃষকের ধান প্রতিমণ ৫০০/৫৫০ ধরে বা চালের হিসেবে (প্রতিমণ ধানে ২৪ কেজি চাল) ৯১৬ টাকায় ফঁড়িয়া ও মহাজনদের হাত হয়ে মিল মালিকের কবজায় চলে যায়।
চর কালকিনি ইউনিয়নের চর শামছুদ্দিন গ্রামের কৃষক আবুল বাশার বলেন, এ মৌসুমে ১০ একর জমিতে আমন ধান উত্পাদন করেছি প্রতিমণ ধানে উত্পাদন খরচ পড়েছে প্রায় ৭৫০ টাকা। বিক্রয় করেছি মাত্র ৫০০/৫৫০ টাকা। লোকসানে বিক্রয় না করে উপায় নেই। সার ও ঔষধ বাবদ দোকানে এখনো ৪০ হাজার টাকা দেনা আছি, অতএব কমদামে ফসল বিক্রি করতে আমি বাধ্য।
উপজেলা সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সভাপতি ইব্রাহীম খলিল বলেন, কৃষক যখন ধান বিক্রয় করে তখন ধানের মূল্য মাত্র ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা। অপরদিকে কৃষকের ঘরে যখন ধান থাকে না, সে যখন কিনে তখন ধানের মূল্য ১২০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা। তিনি আরো বলেন, সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের নিকট থেকে ধান ক্রয় করলে কৃষক উপকৃত হবে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রাজীব রায় বলেন, সরকার সরাসরি স্থানীয় কৃষকের নিকট থেকে ফসল সংগ্রহ করলে প্রান্তিক কৃষক লাভবান হবে, আমরা ভালো মানের চাল পাব। তিনি আরো জানান এ মৌসুমে আমাদের ১০৪১ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা। উপজেলার একমাত্র মিলের উত্পাদন ক্ষমতা মাত্র ৮১৬ মেট্রিক টন বাকি চাল উত্তরবঙ্গ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। তিনি জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ১৪ টনের ১টি ট্রাক আসতে পরিবহন খরচ বাবদ খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতি উপজেলায় মিল স্থাপন করে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ করে চাল উত্পাদন করলে সরকার এবং কৃষক উভয়ে লাভবান হবে।
