পানির নিচে কৃষকের ভাগ্য 

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:৪৭

কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার কৃষকের প্রায় ৫শ হেক্টর জমির রোপা আমন ধানক্ষেত। দ্রুত ধানক্ষেত থেকে পানি নেমে না গেলে নষ্ট হয়ে যাবে তাদের কষ্টের ফসল।

রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বিরামহীন বৃষ্টিপাতের কারণে এবং পাহাড় থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাজিব, ছিট রাজিব, বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি, মাগুড়া ইউনিয়নের মাগুড়া দোলাপাড়া, গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের গাড়াগ্রামের দোলাসহ ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের প্রায় ৫শ হেক্টর জমির রোপা আমন ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে স্বপ্নের ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। অপর দিকে অতিবৃষ্টির কারণে বেগুনসহ অন্যান্য সবজি পানিতে ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে কৃষকদের।

মাগুড়া দোলাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে আমার ৪ বিঘা জমির রোপা আমনক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। যদি বৃষ্টি না থামে তাহলে আমার ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে যাবে। আমাকে পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে।

গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক লতিফ মিয়া, বড়ভিটার কৃষক মতিয়ার রহমান, বাহাগিলির কৃষক সাইয়াদার রহমানসহ অনেক কৃষক বলেন, এমনিতেই করোনার কারণে আমাদের আগাম সবজির বাজার না পেয়ে পথে বসেছি তার উপর অতিবৃষ্টিতে আমাদের ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার কারণে আমরা চিন্তায় পরে গেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে অতিবৃষ্টির কারণে কিশোরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ১৭৬ হেক্টর জমির রোপা আমন ধানক্ষেত পানিতে ডুবে রয়েছে। যদি আজকে থেকে আর বৃষ্টি না হয় তাহলে খুব তাড়াতাড়ি জমি থেকে পানি নেমে যাবে। পানি নেমে গেলে ধানক্ষেত নষ্ট হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

ইত্তেফাক/আরকেজি