শেরপুরে সিন্ডিকেটের গোডাউনে ১০ টাকা কেজির চাল

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:২৯

বগুড়ার শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বরাদ্দ দেওয়া ১০ টাকা কেজির চালের সুফল পাচ্ছেন না হতদরিদ্ররা। দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দের ওইসব চাল চলে যাচ্ছে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীর গোডাউনে। সেখানে ওই চাল বিক্রি করছেন ৩৬ টাকা কেজি দরে। সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত করে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ওই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। 

অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিলার ও তার লোকজন চালের পরিবর্তে নামমাত্র টাকা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিতরণের মাষ্টাররোলেও তাদের টিপ সহি ও স্বাক্ষর নিচ্ছেন। এছাড়া চাল বিতরণেও অনিয়ম দেখা গেছে। তালিকায় নাম থাকা অনেকেই নেই এলাকায়। আবার কেউ কেউ মারাও গেছেন। এছাড়া বেশকিছু ভুয়া কার্ডও রয়েছে। এরপরও তাদের নামে চাল বিতরণ বন্ধ নেই। নিজেরাই টিপ-স্বাক্ষর করে চাল উত্তোলন দেখিয়ে তা কালোবাজারে বিক্রি করছেন। অনুসন্ধানেও এর সত্যতা মেলে। এতো কিছুর পরও নীবর কর্তৃপক্ষ, ধরাছোঁয়ার বাইরে ওই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ২১ সেপ্টেম্বর এই উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সপ্তাহের তিনদিন সোম, মঙ্গল ও বুধবার এই চাল বিক্রি করা হচ্ছে। চাল বিক্রির জন্য উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ২০ জন ডিলার রয়েছে। এসব ডিলারের দোকান থেকে তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র ১৪ হাজার ৩৭১টি পরিবার ১০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি চাল নিতে পারবেন। আমন ধান ঘরে আসার আগ পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালু থাকবে। কিন্তু সরকারের এই মহতি উদ্যোগে হতদরিদ্র মানুষ কোন সুফল পাচ্ছেন না। কেবল ওই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট লাভবান হচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চাল বিক্রির দিনগুলোতে সুবিধাভোগীরা না এলেও ডিলারের নামে বরাদ্দের শতভাগ চাল বিক্রি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। খাদ্যগুদাম থেকে বরাদ্দের সব চাল উত্তোলন করে বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো মজুদ দেখা যায়নি। মাত্র ৩০ কেজি ওজনের ৪৭ বস্তা চাল বাদে সব চাল সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিক্রি দেখানো হয়েছে। 

এসময় জানতে চাইলে উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মো. লিটন সাংবাদিকদের জানান, তার বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ৭১৯ জন কার্ডধারী হতদরিদ্র ব্যক্তি চাল কিনে থাকেন। তারা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বিক্রয়কেন্দ্রে আসেন এবং তাদের বরাদ্দের চাল কিনে নিয়ে গেছেন। এরমধ্যে প্রথমদিনেই ৩৬৮ জন ও দ্বিতীয় দিনে ২২৯ ব্যক্তি চাল ক্রয় করেন। আর সামান্য কয়েকজন ব্যক্তি বাকি থাকলেও তারাও আসছেন এবং চাল নিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনদিনের মধ্যে সব সুবিধাভোগীর মধ্যে ওই চাল বিতরণকে অনেকেই অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে চাল কেনা সিন্ডিকেটের লোকরো দরিদ্র মানুষের নিকট থেকে কমদামে চাল কিনে গোডাউনে ভরছেন, পরে ওই চাল প্রায় চারগুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন এমন অভিযোগ প্রেক্ষিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে শহরের হাটখোলা এলাকায় এই কর্মসূচির ৩০০ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রিকালে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে ওই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীর এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় লাখ টাকার বিনিময়ে রফাদফা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেকেন্দার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ডিলারের চাল বিক্রির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সেখানে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সুবিধাভোগীরা চাল বিক্রি করতে পারবেন কি-না তা পরিপত্রে পরিস্কার করে কিছু বলা নেই। এরপরও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কেনাবেচা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এসি