বাংলাদেশের মতো এবার ভারতেও ভোটযন্ত্রে (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভুল করে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে দিলে থাকছে সংশোধনের সুযোগ। ২০১৯ সালে আসন্ন লোকসভা ভোটে এই ব্যবস্থা করছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের মতো পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের সব বুথেও ভোটার ভেরিফায়েড পেপার অডিট ট্রেইল (ভিভিপ্যাট) থাকবে। ভোটযন্ত্রে ভোটার পছন্দসই বোতাম টেপার পর শব্দ করে ওই যন্ত্রের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে একটি স্লিপ। যেটি শুধুমাত্র ভোটারই দেখতে পাবেন এবং তার নিজের ভোটদানের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবেন। তিনি কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন তাও দেখতে পাবেন। ৭ সেকেন্ড পর স্লিপটি ভোটযন্ত্রের ভেতরে থাকা খাপে চলে যাবে।
বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ড. আরিজ আফতাব জানিয়েছেন, গণনার সময় ভোটযন্ত্রে এবং ভিভিপ্যাটে ভোটদানের সংখ্যা মিলিয়ে দেখা হবে। ভোটদানের সময় ওই স্লিপ দেখে যদি কোনও ভোটারের মনে হয় ভুল জায়গায় ভোট দেওয়া হয়ে গেছে, সেক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে ১৪৯এম ফর্ম নিয়ে তা পূরণ করে ফের ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ভারতের নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ৫৪৩টি লোকসভা কেন্দ্রেই একই ব্যবস্থায় ভোটগ্রহণ হবে।
উল্লেখ্য, ভারতের ভোটে ইলেকট্রনিক ভোট মেশিনের সঙ্গে ভিভিপ্যাট যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয় ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়। এই যন্ত্রের মাধ্যমে কোন ভোটার কাকে ভোট দিয়েছেন তা নিশ্চিত করা যায়। কোনও রাজনৈতিক দলের যদি মনে হয় ভোটযন্ত্রে কারচুপি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে তারা আদালতে আবেদন করতে পারে। তারপর ভিভিপ্যাটের ভেতরে থাকা কাগজ থেকে মিলিয়ে নেওয়া হবে কোনও রাজনৈতিক দল যন্ত্রে যতগুলো ভোট পেয়েছে, রেকর্ডেও তা একই আছে কি নেই।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৬টি কেন্দ্রে ভোট হয়েছে ইলেক্ট্রনিক ভোট যন্ত্রে। সেখানে ভুল করে অপছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হয়ে গেলে, তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এবার একই পথে হাঁটল ভারতও।
