ঘাগুটিয়া পদ্মবিল

প্রকৃতির সঙ্গে পদ্মের মিতালি

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৯

প্রকৃতিপ্রেমিকদের কাছে নতুন ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ঘাগুটিয়া ও মিনারকুট পদ্মবিল। প্রায় ২০০ একরের এই পদ্মবিলটিতে আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাস পদ্মফুল ফুটে থাকে। সূর্য উঁকি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাপড়ি মেলে নিজের সৌন্দর্যের জানান দেয় প্রকৃতির মধ্যে। সেই সৌন্দর্যকে যেন আরো নৈসর্গিক করে তুলে খাবার সংগ্রহের জন্য দল বেঁধে ছুটে আসা শালিক পাখি। তাদের কিচিরমিচিরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিল।

বিল ঘুরতে আসা কলেজছাত্র নাসিম হোসেন ও রাকিবুল জানান, ঘাগুটিয়া পদ্মবিলের নাম শুনেছি। সরজমিনে এসে দেখি খুবই মনোমুন্ধকর পরিবেশ। আমরা তিন বন্ধু মিলে ডিঙি নৌকা ভাড়া করে পুরো বিল ঘুরে অনেক আনন্দ উপভোগ করেছি। তবে যাত্রাপথে কর্নেল বাজার থেকে ঘাগুটিয়া পর্যন্ত সড়কে খানাখন্দ থাকায় এবং সড়কটি সরু হওয়ায় যান চলাচলে কিছুটা সমস্যা হয়। সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করা হলে দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধা হবে। কলেজছাত্রী শামীমা ইয়াছমিন বলেন, এটা পদ্মবিল। এর চারপাশে গাছপালা রয়েছে। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে সবাই আসতে পারে। পাশে বিজিবি ক্যাম্প থাকায় নিরাপত্তা ভালো পাওয়া যাচ্ছে।  ডিঙি নৌকার মাঝি জয়নাল মিয়া জানান, বর্ষা মৌসুমে তেমন কোনো কাজকর্ম থাকে না। ছোট নৌকা নিয়ে বিলের পাড়ে বসে থাকি। বিভিন্ন লোকজন নৌকায় করে বিল উপভোগ করে। এতে আমাদের প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা রোজগার হয়। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে পারি।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইস উদ্দিন জানান, পদ্মবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যাতে দর্শনার্থীরা নিরিবিলি এবং নির্বিঘ্নে উপভোগ করতে পারে তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান বলেন, এ বিলকে জেলার আকর্ষণীয় পর্যটন স্পষ্ট হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।