বন্ড সুবিধায় এক্সেসরিজ এনে খোলাবাজারে বিক্রি

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৪৫

বন্ডেড ওয়্যারহাউজের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন এক্সেসরিজের কাঁচামাল এনে খোলাবাজারে বিক্রির প্রবণতা আবার বাড়ছে। সম্প্রতি শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের অনিয়ম বের হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, এর বাইরে ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগ, বন্ড কমিশনারেট অফিস চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজসহ মাঠ পর্যায়ের ভ্যাট অফিসের অভিযানেও এ ধরনের অনিয়ম বের হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার ইসলামবাগের সেলিনা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের ব্যাপক অনিয়ম পায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর পর দেখা যায়, আমদানিকৃত বেশির ভাগ এক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠানটির নির্দিষ্ট গোডাউনে নেই কিংবা থাকলেও খুবই কম পরিমাণে। অর্থাত্ কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায়  আমদানি করা হলেও তা দিয়ে তৈরিকৃত পণ্য রপ্তানি হয়নি। বরং ঐসব কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আবার কিছু কাঁচামাল যে পরিমাণ থাকার কথা, পাওয়া গেছে তার চাইতে অনেক বেশি। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা পরীক্ষা করে দেখেছেন, আলোচ্য প্রতিষ্ঠানটি এ প্রক্রিয়ায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, দেশে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগী সক্ষম করে তুলতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়। তবে শর্ত হলো আমদানিকৃত কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য পুরোটাই রপ্তানি করতে হবে। স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হলে সংশ্লিষ্ট শুল্ক অফিসের অনুমতি নিয়ে প্রযোজ্য হারে শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। আমদানিকৃত এসব কাঁচামাল শুল্ক বিভাগের বন্ড কমিশনারেট নির্ধারিত গুদামে রাখতে হবে। এটি বন্ডেড ওয়্যারহাউজ বা বন্ড সুবিধা নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই এই বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করলে পূর্ণ শুল্ককর পরিশোধ করা বাণিজ্যিক আমদানিকারক এবং স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। আবার সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এ অনিয়ম ধরতে গত এক বছর আগে থেকে বন্ড কমিশনারেট অফিস ব্যপক অভিযান শুরু করলে বন্ড চোরাকারবারিরা কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

এনবিআর সূত্র জানায়, আলোচ্য মেসার্স সেলিনা এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ অভিযান চালায় গত জুলাইয়ের ১৫ তারিখে। ওই প্রতিষ্ঠানে আমদানিকৃত পলিয়েন্টার টেক্সচার্ট ইয়ার্নসহ অন্যান্য সুতা, রাবার থ্রেড, গামটেপ জাম্বু রোল, ইন্টারলাইনিং, ডুপ্লেক্স বোর্ড, টিস্যু পেপার, এলডিপিই, থিনার, সেলফ এডহেসিভ টেপ, প্রিন্টিং ইন্ক, স্পান পলিয়েস্টার থ্রেড আমদানি করেছিল। পরিদর্শনে এসব পণ্য সঠিক পরিমাণে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আমদানি না করা সত্ত্বেও ১ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০ কেজি পিপি দানা পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে পরিদর্শনে ৫৮৪ মেট্রিক টন কাঁচামাল কম পাওয়া গেছে। আর হিসাবের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে  ১৯১ মেট্রিক টন কাঁচামাল।

জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কিছু যুক্তি তুলে ধরা হলেও তা আমলে নেয়নি গোয়েন্দা বিভাগ। এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেন, আমদানিকৃত এসব কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক ছাড়াও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, আগাম কর (এটি), অগ্রিম আয়কর প্রযোজ্য।