মুন্সীগঞ্জে নান্দনিক ডিসি পার্কের উদ্বোধন আজ

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০৬

মুন্সীগঞ্জে ডিসি পার্কের উদ্বোধন হচ্ছে আজ। মূল শহরের পুরাতন কাছারী এলাকায় অবস্থিত নান্দনিক এই পার্কটি বর্তমানে শহরের সব মানুষের বিনোদনের কেন্দ্র বিন্দু। পার্কটি ঘিরে বদলে গেছে মফস্বল শহরটির চেহারা। নানা জাতের ফুল ও বৃক্ষরাজিতে পরিপূর্ণ এই পার্কটি প্রকৃতিতে এক ধরনের জৌলুশ এনে দিয়েছে।

পার্কে রয়েছে আকর্ষণীয় এক কৃত্রিম ঝর্ণা। রয়েছে সুদৃশ্য ওয়াকওয়েসহ বসার সুব্যবস্থা। আর মুক্ত মঞ্চ এবং মঞ্চের ওপরের তলার কফি হাউস পূর্ণতা এনে দিয়েছে পার্কটিকে। প্রায় ৪১ শতাংশ জমিতে গড়ে তোলা এই সুদৃশ্য পার্কটি শহরের চেহারা পাল্টে দিয়েছে। মুঘল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ইদ্রাকপুর কেল্লার পাশে পুরনো হাসপাতাল লাগোয়া এই পার্কটি এখন শহরের সবচেয়ে সুন্দর স্থান। আজ শনিবার সকালে পার্কটি উদ্বোধন করা হবে। আর এই উদ্বোধন নিয়ে উত্সব আমেজ বিরাজ করছে এখানে।

বর্তমানে অনিন্দ্য সুন্দর এই পার্কটি দেখলে বোঝার উপায় নেই যে, কয়েক মাস আগেও এটি ছিল ময়লার ভাগাড়। পৌরসভার ময়লা ফেলার স্থান হিসেবে জায়গাটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। এছাড়া লাকড়ির দোকান, রেন্টেকারসহ নানা কিছুতে আশেপাশের সরকারি খাস জায়গা ছিল বেদখলে। এখন এসব কেবলই দুঃস্মৃতি।

উদ্বোধনের আগেই সকলের প্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে এই ডিসি পার্ক। নারী পুরুষসহ সকল বয়সী মানুষ এই পার্কে এসে প্রশান্তি পাচ্ছেন। সকলের পদচারণায় পার্কটিতে এখন প্রাণের স্পন্দন। পার্কটির দায়িত্বে থাকা স্থপতি বিপ্লব বড়ুয়া জানান, জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা চমত্কার রুচির অধিকারী। আমরা তার পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করছি মাত্র। পার্কে এই নান্দনিকতা এবং বৈচিত্র্যতা এসেছে তার সৃজনশীলতার কারণেই। পার্কটিতে বৃক্ষরোপণ এবং তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মুন্সী। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক যেসব বৃক্ষ বাছাই করে দিচ্ছেন সেসব গাছই সংগ্রহ করে এখানে রোপণ করা হয়েছে। রঙ বেরঙের ফুল এবং নানা রকম দর্শনীয় ও বিলুপ্ত প্রায় বৃক্ষ স্থান পেয়েছে এ পার্কে। স্থাপত্যশৈলী এবং বৃক্ষরাজির বৈচিত্র্যতা- দু’দিক থেকেই এটি দেশের অন্যতম সেরা পার্ক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মতিউল ইসলাম হিরু বলেন, এই পার্ক মুন্সীগঞ্জকে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেরুন নেছা নাজমা বলেন, উদ্বোধনের আগেই সকলের প্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে ডিসি পার্ক। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)  মোহা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, এই পার্কটি বাস্তবায়নের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তারা সকলেই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন। জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা বলেন, পার্কটি করা হয়েছে মানুষের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করেই। যদি এই পার্ক মানুষের কল্যাণের অংশ হয়, ভালো লাগার অংশ হয়, তবে সেটিই হবে বড় প্রাপ্তি।