টুপি বিক্রি করে চলছে পঙ্গু নূরুল ইসলামের সংসার

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০৮

আড়াইহাজার উপজেলার বগাদী কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার বাঁ পা নেই। অন্য সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মত সহজে চলাফেরা করতে পারেন না। কিন্তু তাই বলে হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে নেই তিনি। সংসার চালান তিনি টুপি বিক্রি করে। অনেকের মত ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নেন নি তিনি। নুরুল ইসলামরা ৫ ভাই বোন। সবার বড় তিনি। তার পিতার নাম আক্কেল আলী। নুরুল ইসলাম জানান, তিনি জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী নন। জানালেন তার পা হারানোর করুণ কাহিনী। সংসারের হাল ধরার জন্য জায়গা জমি বিক্রি করে ২০০০ সালে নুরুল ইসলাম চলে যান মালয়েশিয়ায়। সেখানে এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে বাঁ পাটি কেটে ফেলতে হয় তার । ফলে ২০০৪ সালে পঙ্গু অবস্থায় দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে বিয়ে করেন তিনি। তার দুই মেয়ে। সুরাইয়া (৯) ও খাদিজা (৭)। সুরাইয়া কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। আর খাদিজা পড়ে ২য় শ্রেণিতে একই বিদ্যালয়ে।

নুরুল ইসলাম স্ত্রী কন্যাদের নিয়ে পিতা-মাতা ও ভাইবোনদের কাছ থেকে আলাদা থাকেন। সংসারী হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকটি ব্যবসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। বিগত প্রায় এক বছর আগে ধরেন টুপি, তসবিহ, আতর বিক্রির ব্যবসা। প্রতি শুক্রবার উপজেলা পরিষদ মসজিদের সামনে এবং অন্যান্য দিন বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ওয়াজ মাহফিলগুলোতে তিনি তার টুপি, তসবিহ, আতরের পসরা সাজিয়ে বসেন। সারা দিনে হাজার খানেক টাকা বিক্রি হয়। লাভ হয় দৈনিক ২-৩ শ টাকা। এ দিয়েই তিনি অতি কষ্টে সংসার খরচ এবং মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। নুরুল ইসলাম জানান, তিনি সরকারের কাছ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এতে তার অনেকটা উপকার হচ্ছে।