শ্যামাসুন্দরী ও কে.ডি খাল সংস্কারের দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:১৪

ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবল থেকে রংপুর নগরবাসীকে রক্ষা করতে শ্যামাসুন্দরী ও কে.ডি খাল খনন সংস্কার এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন নয়, মহাপরিকল্পনার আলোকে নগর সাজানোর দাবিতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় স্থানীয় প্রেসক্লাব চত্বরে জলাবদ্ধতার ভুক্তভোগী রংপুর নগরবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

রাজনৈতিক সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা পলাশ কান্তি নাগ এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন-রাজনীতিবিদ মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ হোসেন, মোজাফফর হোসেন চাঁদ, শিক্ষক বনমালী পাল, সাবেক ছাত্রনেতা রাতুলুজ্জামান রাতুল, শ্রমিক নেতা রেদওয়ান ফেরদৌস, রোস্তম আলী, শিক্ষানবিশ আইনজীবী স্বপন রায়, শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সংগঠক আব্দুস সাত্তার বকুল ও নিপীড়ন বিরোধী নারীমঞ্চের সংগঠক সুলতানা আক্তার প্রমুখ।

আরও পড়ুন: রিফাত হত্যা মামলার মাস্টারমাইন্ড মিন্নি গ্রেফতার

সমাবেশটি পরিচালনা করেন সাংস্কৃতিক কর্মী নাসির সুমন। বক্তারা বলেন, ‘এক রাতের টানা বর্ষণে রংপুর নগরী তলিয়ে যাবে এটা কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। নগরীর প্রায় প্রতিটি রাস্তা-ঘাট,বাসা-বাড়িতে জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। পানিবন্দি মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে। অনেকের ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র, জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।আজ এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। শ্যামাসুন্দরী ও কে.ডি খাল অবিরাম এই বর্ষণের পানি ধারণ করতে পারতো। কিন্তু শ্যামাসুন্দরী ও কে.ডি খাল ক্রমাগত দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে তা হয়নি। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অনেকাংশে দায়ী। আজকে শ্যামাসুন্দরী খালকে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিনে পরিণত করা হয়েছে।৪৮২ জন দখলদারের কারণে শ্যামাসুন্দরী খালের জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে। ১৮৯০ সালে ডিমলার রাজা জানকিবল্লভ সেন রংপুর নগরীবাসীকে ম্যালারিয়া রোগে হাত থেকে রক্ষা করতে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খালটি খনন করে। এক সময় খাল ২৩ থেকে ৯০ ফিট পর্যন্ত প্রশস্ত ছিল। বর্তমানে খালটি ১৫-২০ ফিটে পরিণত হয়েছে। বুড়িগঙ্গা দখলমুক্ত হলে শ্যামাসুন্দরী কেন হবে না ? বিগতদিনে শ্যামাসুন্দরীকে ঘিরে কাঙ্ক্ষিত কোন কাজ হয়নি। বাজেট বরাদ্দের সিংহভাগ লুট হয়ে। শ্যামাসুন্দরী সংস্কার এখন সময়ের দাবি। সেই সাথে পরিকল্পিত ও টেকশই নগরায়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।’

বক্তারা, অবিলম্বে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবল থেকে নগরীবাসীকে রক্ষা করতে শ্যামাসুন্দরী এবং কে.ডি খাল খনন ও সংস্কার, মহাপরিকল্পনার আলোকে নগরকে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। 

ইত্তেফাক/এএএম