বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সহ সভাপতি ও বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক দুর্জয় বাংলার নির্বাহী সম্পাদক দীপঙ্কর চক্রবর্তীর হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছরে দিনটিতে বগুড়ায় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে প্রবীণ এ সাংবাদিককে। দিনটি উপলক্ষে বগুড়া ও শেরপুর উপজেলায় পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল- কালো ব্যাচ ধারণ, স্মরণসভা ও সাংবাদিকতায় দীপঙ্কর চক্রবর্তী পদক প্রদান।
শুক্রবার বেলা ১১টায় বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিইউজে) আয়োজন স্মরণ সভা ও দীপঙ্কর চক্রবর্তী স্মৃতিপদক প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বগুড়া-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিউজের সভাপতি আমজাদ হোসেন মিন্টু।
বিইউজের সাধারণ সম্পাদক জেএম রউফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য মাহমুদুল আলম নয়ন, বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য আরিফ রেহমান, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব জিএম সজল, সাবেক সহ-সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য শংকর, প্রয়াত দীপঙ্কর চক্রবর্তীর ছোট ছেলে অনিরূদ্ধ চক্রবর্তী, বিইউজের সদস্য আব্দুস সালাম বাবু, এম সারওয়ার খান প্রমুখ।
এসময় বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান বলেন, প্রয়াত সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তীর মতো নির্ভিক সাংবাদিক আমাদের সমাজের আলোকবর্তিকা। জোট সরকারের সময় বেছে বেছে এমন নির্ভিক সাংবাদিকদের খুন করা হয়েছে। সেসব হত্যাকা-ের আলামত পর্যন্ত গায়েব করা হয়েছে। সাংবাদিকদের খুন করা হলে বিচার হয়না এমন একটি সংস্কৃতি সেই সময় চালু করা হয়। বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার এসব হত্যাকা-ের বিচার নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের জীবন-মানের উন্নয়নেও এই সরকার বদ্ধপরিকর।
প্রতি বছরের মতো এবার দৈনিক উত্তরবার্তা পত্রিকার সম্পাদক মাববুব উল আলম ও বগুড়ার প্রবীণ সাংবাদিক অধ্যাপক এসএম আইয়ুবের হাতে সাংবাদিকতায় দীপঙ্কর চক্রবর্তী স্মৃতি পদক তুলে দেওয়া হয়।

এদিকে বগুড়ার শেরপুরে প্রয়াত সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তী স্মরণে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল ৪টায় শেরপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে ওই স্মরণসভা শেরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবটির সহ সভাপতি দৈনিক ইত্তেফাকের শেরপুর উপজেলা সংবাদদাতা আব্দুল মান্নান।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইনের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় স্মৃতিচারণ করেন- সাপ্তাহিক আজকের শেরপুর পত্রিকার সম্পাদক সাইফুল বারী ডাবলু, সাপ্তাহিক তথ্যমালার সম্পাদক সুজিত বসাক, সাংবাদিক সবুজ চৌধুরী, আইয়ুব আলী, সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তীর ছোট ছেলে অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী, আব্দুল হামিদ প্রমুখ।
এসময় বক্তরা দীপঙ্কর চক্রবর্তীর হত্যার দায় স্বীকার করা জঙ্গি সংগঠন জেএমবির রাজীব গান্ধীর শাস্তি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।
বক্তরা দাবি করেন, রাজধানীর হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার অন্যতম এ আসামিকে বগুড়ায় গ্রেফতার দেখানের পরই তিনি আদালতে হত্যায় জড়িত থাকার তথ্য স্বীকার করেন। তবে যেদিন হত্যাটি ঘটে সেই রাতের স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে রাজীব গান্ধীর তথ্যের বহু গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে।
নিহতের ছোট ছেলে অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলেন, ঘটনার রাতে বাড়ির সামনে মোড়ের ওপর দুটি মোটরসাইকেল প্রচ- এক্সেলেটর শব্দ শুনেছেন এলাকাবাসীরা। দুটি মোটরসাইকেল প্রচ- গতিতে শেরপুর শহরের কর্মকার পাড়া পার হওয়ার পথে স্প্রিড ব্রেকারের উল্টে পড়ে যায়। যা অনেকেই সেই রাতে দেখেছেন। কিন্তু রাজীব গান্ধীর স্বীকারোক্তিতে এই বিষয়গুলো নেই। তিনি বলেছেন, খুন করার পর শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে করে বগুড়া শহরে চলে গেছেন। কিন্তু রাত দেড়টায় শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে কোনো বাস চলে না। আর কেন দীপংকর চক্রবর্তীকে হত্যা করা হলো সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা জবানবন্দিতে নেই। নেই কোনো দালিলিক প্রমাণ।
অপরদিকে হত্যায় জব্দ করা আলমত গায়েবের বিষয়ে অনিরুদ্ধ বলেন, শেরপুর থানা থেকে আলামত গায়েব হয়ে যাওয়া বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় একাধিক সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে আদালত আলামত প্রদর্শনের নির্দেশ দেন। কিন্তু আলমত প্রদশর্ণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় তদন্তকারী পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি জঙ্গিরা হত্যা করে থাকে তবে থানা থেকে আলামত গায়েব করলো কে?

অপরদিকে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সহ-সভাপতি, দৈনিক দুর্জয় বাংলার সাবেক নির্বাহী সম্পাদক সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বগুড়ার শেরপুরে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে স্মরণসভা প্রেসক্লাবটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দীপক কুমার সরকারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ, বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান ভূট্টো, প্রয়াত সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তীর ছোট ভাই সন্তোষ চক্রবর্তী পীযুষ।
উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌরভ অধিকারী শুভর সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে স্মৃতিচারণ করেন- সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শরীফ, সাবেক সা. সম্পাদক রাশেদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, দপ্তর সম্পাদক বাধন কর্মকার কৃষ্ণ, নির্বাহী সদস্য নজরুল ইসলাম, পরিমল বসাক, সাংবাদিক মোজাফফর আলী, উত্তম সরকার, শরিফ উদ্দীন সাকিদার, আবু বকর সিদ্দিক, বিমান মৈত্র প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২ অক্টোবর বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক দুর্জয় বাংলার তৎকালীন নির্বাহী সম্পাদক ও বিএফইউজে’র সহ-সভাপতি দীপঙ্কর চক্রবর্তী কর্মস্থল থেকে রাতে বাড়ি ফেরার পথে বগুড়ার শেরপুরে তার বাড়ির কাছে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হন। দীর্ঘ ১৪ বছর মামলাটি চলার পর ডিবি পুলিশ রাজধানীর হলি আর্টিজান বেকারি হামলার অন্যতম আসামি রাজীব গান্ধীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
ইত্তেফাক/এসি
