বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের লোকজন এসেছিলেন বিয়ে ঠেকাতে। যথারীতি কনে পক্ষের কাছে মুচলেকাও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের লোকজন চলে যাবার পরই ঘটলো অন্য ঘটনা। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য সেই কনেকে তুলে দেন বরপক্ষের হাতে। এমন ঘটনায় এলাকায় বেশ তোলপাড়া চলছে। ঘটনা জানতে ওই ইউপি সদস্যকে তলব করেছে উপজেলা প্রশাসন।
গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে জেলার সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের গোলড়া পূর্বপাড়া এলাকায় এই বাল্যবিয়ের এই ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুরে বরের বাড়িতে ধুমধামে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৌভাত অনুষ্ঠান।
যার হস্তক্ষেপে এমন ঘটনাটি ঘটেছে তিনি হলেন সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোনায়েম খান।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কনের ফুফাতে ভাই মজনু মিয়া বলেন, কনের বয়স এখনো ১৮ হয়নি। তবে ভালো ছেলে পাওয়ায় আগেই বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ে পন্ড করে দেওয়ার জন্য উপজেলা থেকে লোকজন আসলেও তারা চলে যাওয়ার পর কনেকে বরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এসব সকল বিষয়ে মোনায়েম মেম্বার তদারকি করেছেন।
মেম্বার মোনায়েম খান বলেন, সামাজিকতা রক্ষার জন্য স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেম্বারদের যেতে হয়। এছাড়া মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলেও বিয়ের উপযুক্ত। তবে ইউএনও অফিস থেকে লোকজন আসার পর মেয়েকে ছেলের বাড়িতে না পাঠানোর জন্য তিনি মেয়ের অভিভাবকদের বলেছেন বলে জানান।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে লোকজন পাঠানো হয়েছিল। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে কনেকে বরের বাড়ি পাঠাবে না বলে মুচলেকা দিয়েছে কনের অভিভাবক। এছাড়া এই বিষয়ের সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এসি
