ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী উলফাত আরা তিন্নির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ। এই ঘটনার জের ধরে আজ (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ও সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।
শৈলকুপার থানার পুলিশ পরিদর্শন (তদন্ত) মহসিন হোসেন জানান ইতোমধ্যে এজহারভুক্ত ৪ জন আটক করা হয়েছে। এলাকাবাসীর মধ্যে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী উলফাত আরা তিন্নীকে (২৫) ধর্ষণ ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় তার মা হালিমা খাতুন বাদি হয়ে শৈলকুপা থানায় মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে মামলায় এজাহারভুক্ত লাবিদ হোসেন, নজরুল, তন্ময় ও আমিরুল কে আটক করা হয়েছে তবে ঘটনার মূলহোতা মৃত্যুর বোন মিন্নির সাবেক স্বামী জামিরুল ইসলাম ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সবাই ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা থানার শেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলের হেমনগর রাজবাড়ীর দেখভালের দায়িত্ব নিচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ, এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা বিচার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুরুনন্নবী ইসলাম সবুজ ও সেক্রেটারি জি কে সাদিক যৌথ স্বাক্ষরিত বার্তায় তিন্নি হত্যার বিচারসহ দেশব্যাপী নারীর উপর সহিংসতা বন্ধে বিবৃতি দিয়েছেন।
মৃত্যুর বোন মিন্নি আক্তার বলেন, ‘আমাদের পরিবারের ওপর কোন হুমকি দেওয়া হয়নি কিন্তু যারা আত্মীয়স্বজন আছে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার বোন হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’
শৈলকুপা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: মুহসিন হোসেন জানিয়েছেন, ‘এজহারভুক্ত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে।’
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘তিন্নির মৃত্যুর বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমি ঘটনা স্থলে গিয়েছি। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।’
ইত্তেফাক/এমএএম
