g ইকবাল খন্দকার
শীত পড়বে অথচ কুয়াশা পড়বে না, তা তো হতেই পারে না। জানা গেছে, শীতের সঙ্গে কুয়াশার গলায় গলায় খাতির। তাই একটাকে ছাড়া আরেকটা চলতেই পারে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কুয়াশা জিনিসটা আসলে কী। না, প্রশ্নটা সবার কাছে না। কারণ, অধিকাংশেরই জানা আছে কুয়াশা কী। জানা নেই কেবল সেই ক্যাটাগরির মানুষের, যারা জানেন না ধানগাছ দেখতে কেমন থাকে। ধানগাছ দিয়ে তক্তা হয় কিনা। অর্থাত্ গ্রামের সঙ্গে যাদের একদমই যোগাযোগ নেই, তাদের খুব একটা জানার কথা না কুয়াশা জিনিসটা আসলে কী। আর এই অজানাকে কেন্দ্র করেই উঠে আসে বা আসতে পারে নানাবিধ কথাবার্তা। যেমন কথায় কথায় সেদিন একজন বলল—কুয়াশা হচ্ছে এমন একটা কুয়া, যেটার সঙ্গে ‘শা’ যুক্ত আছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম—‘শা’ জিনিসটা কী?
উত্তর এল—গোলাপ শাহ, সালমান শাহ প্রমুখের নামের সঙ্গে যুক্ত ‘শাহ’-কে আমরা সংক্ষেপে ‘শা’ বলি না? ‘কুয়া’র সঙ্গে যুক্ত ‘শা’টাও মূলত ‘শাহ’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
আমি ব্যাখ্যা শুনে এতটাই হতাশ হলাম, মনে হলো কিছুক্ষণ কুয়াশার মধ্যে হাঁটাহাঁটি করে আসি। যেন আচ্ছামত ঠান্ডা লাগে। যেন ঢোল বাজানোর মতো শব্দ করে কাশতে পারি। কারণ, এমন ব্যাখ্যার পর ঢোল বাজিয়ে আনন্দ করতে না পারলে কিসের জীবন! তো কুয়াশা নিয়ে যে যেমন ব্যাখ্যাই দিক না কেন, কুয়াশাকে কেন্দ্র করে নানাবিধ ঘটনা ঘটতে পারে, এটাকে কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই। একটা ঘটনা বলা যাক।
আমার এক প্রতিবেশী খুব স্বাস্থ্যসচেতন। রোজ সকালে হাঁটতে বের হন। হাঁটেন তো হাঁটেন, রাস্তাঘাট ফাঁকা দেখলে ঝেড়ে দৌড়ও দেন। দৌড় না দিলে নাকি কড়া ব্যায়াম হয় না। তো প্রতিদিনের মতো গত পরশুদিনও তিনি বের হলেন হাঁটাহাঁটি করার জন্য। এর একটু পরেই বাসায় খবর এলো তিনি অ্যাক্সিডেন্ট করেছেন। আমরা ধরে নিলাম নিশ্চিত গাড়ির নিচে চাপা পড়েছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তেমন কিছু না। কুয়াশার জন্য সামনে কে বা কী আছে দেখতে পাননি, তাই দৌড়াতে গিয়ে বাড়ি খেয়েছেন আরেকজনের সঙ্গে। আর বাড়ি খেয়ে মোটামুটি ভালোই ব্যথা পেয়েছেন। কত ব্যথা পেলে তো আর মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয় না! তো ভদ্রলোক যখন হাসপাতাল থেকে ফিরলেন, দেখতে গেলাম। কিন্তু কথা শুরু করার আগেই তিনি বলে উঠলেন—কুয়াশার মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করতে গেলে হেলমেট পরে নেওয়া উচিত। আর পকেটে রাখা উচিত ডবল চশমা। যাতে কারও সঙ্গে বা বিদ্যুতের খাম্বার সঙ্গে বাড়ি খেয়ে একটা চশমা ভেঙে গেলে সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে বের করে আরেকটা পরে ফেলা যায়। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বললাম।
এবার আসা যাক কুয়াশাকেন্দ্রিক কু-আশা প্রসঙ্গে। আমার এক ছোটভাই বলল, ‘কুয়াশাকে কেন্দ্র করে আমার মনের মধ্যে একটা কু-আশা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।’
আমি বললাম, ‘কী রকম?’
ছোটভাই বলল, ‘না মানে যে এলাকায় বেশি কুয়াশা পড়ে, সেই এলাকাকে ‘শীতকালীন ডেটিং স্পট’ ঘোষণা করা যেতে পারে। যাতে পাশাপাশি বসে ডেটিং করলেও প্রেমিকার বাবা দেখতে না পায়। অবশ্য প্রেমিকার বাবার চোখে ছানী থাকলে কুয়াশা লাগবে না, এমনি ঘোলা দেখবে।’
