g নীরব চন্দন
সজিব, আরিফ, আনোয়ার, শাহিনুর ও সবুজ আমার অনেক কাছের অফিস কলিগ। ক’দিন আগে অফিস কলিগ মোশারফ ভাইয়ের দারুণ দুষ্টু ছেলে ইয়ামিনের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম আমরা। আমরা সবাই মূল অনুষ্ঠানের অনেক আগেই উপস্থিত হলাম। অবশ্য তার যুক্তিযুক্ত কারণও আছে। আরিফের মতে, ‘অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে গেলে আমাদের বিকেলের নাস্তাটা হয়ে যাবে।’ যদিও মূল অনুষ্ঠান ছিল রাতে। মোশারফ ভাইয়ের বাসায় আমরা সবাই বসে আছি। মোশারফ ভাই ও ভাবি তখন ঘর সাজানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আমরা সবাই সেদিন খুব ক্ষুধার্থ ছিলাম। পেটে বালিশ চাপা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছিল না। লজ্জায় খাবারের কথা বলতেও পারছিলাম না। কিভাবে খাবার আগে পাওয়া যায়, সে নিয়েই আমাদের দীর্ঘসময় আলোচনা চলছিল। হঠাত্ সজিব বলে উঠল, ‘আচ্ছা, খাবারটা অগ্রিম নেওয়া যায় না?’ সজিবের প্রস্তাবটা মন্দ নয়। খাবার অগ্রিম খেলে কী সমস্যা? আমাদের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যাই নেই। কিন্তু বিষয়টি মোশারফ ভাইকে কিভাবে বলা যায়, কিছুতেই মাথায় এল না আমাদের। এরই মধ্যে সবুজ কয়েকবার রান্না ঘরে উঁকিও মেরেছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এর কিছুক্ষণ পরে ভাবি আমাদের টেবিলে প্লেট সরবরাহ করলেন। কিন্তু খাবারের দেখা নেই। আধ ঘণ্টা কেটে গেলেও অপেক্ষার অবসান হলো না। তারও কিছুক্ষণ পর ভাবি আমাদের টেবিলে গ্লাস রাখলেন। আমরা ভাবলাম, ‘এই বুঝি সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটা চলে এল! কিন্তু না। এবারও আমাদের আশায় গুড়ে বালি। আরও আধ ঘণ্টা পার হলো। কিন্তু খাবারের ছায়াও দেখতে পেলাম না। আবারও অপেক্ষা। পেট আর কোনো রকম ধৈর্য ধরতে রাজি নয়। তার অল্প কিছুক্ষণ পর ভাবিকে পানির জগটা টেবিলে রাখতে দেখে আমরা আশাবাদী হলাম। এবার নিশ্চয়ই খাবার পাওয়া যাবে। কিন্তু না, তখনো খাবার পাওয়া গেল না। আমরা ভীষণ হতাশ হয়ে পড়লাম। অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটা এল। আমাদের টেবিল খাবার দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হলো। আমরা খেতে যাব, ঠিক সেই মুহূর্তে মোশারফ ভাই বলে উঠলেন, ‘আসুন, আগে কেকটা কাটি।’ কেকটা পরে কাটলে মহাভারত কি অশুদ্ধ হয়ে যাবে—মনে মনে ভাবছিলাম আমি। মনকে সান্ত্বনা দিলাম, একটা কেক কাটতে আর কত সময় লাগবে, বড়জোর পাঁচ মিনিট! কিন্তু কেক কাটতে গিয়ে যে আমাদের অপেক্ষাটা আরও দ্বিগুণ হয়ে যাবে, তা ভাবতেই পারিনি। কেক নিয়ে বসে আছি। কেক কাটব। ঠিক ওই মুহূর্তে ইয়ামিন টয়লেটে দিল দৌড়। টয়লেটে গিয়ে সে দরজা লাগিয়ে বসে আছে। বিশ মিনিট পেরিয়ে গেলেও ইয়ামিনের টয়লেটের দরজা খোলার কোনো লক্ষণ নেই। আমরা ইয়ামিনকে ডাকতে শুরু করলাম। ইয়ামিন ভিতর থেকেই বলল, ‘আমার টয়লেট এখনো শেষ হয়নি।’ ইয়ামিনের টয়লেট শেষ না হলেও ততক্ষণে যে আমাদের পেটের অবস্থা যে শেষ, তা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। ফলাফল হিসেবে আমরা সকলে বিছানায় চিত্পটাং।
খিলক্ষেত, ঢাকা
