বগুড়া-সান্তাহার আঞ্চলিক সড়ক

মুরইল থেকে বশিপুর বাইপাস পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:০৪

তিন বছরেও শেষ হয়নি বগুড়া-সান্তাহার আঞ্চলিক সড়কের ৯ কিলোমিটার অংশের নির্মাণ কাজ। বগুড়ার চারমাথা থেকে নতুন করে রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হলেও আদমদীঘি উপজেলার মুরইল থেকে সান্তাহার বশিপুর বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ দুই বছর ধরে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় চলাচল অযোগ্য সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে কয়েক হাজার যানবাহন। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সব ধরনের যানবাহন ও পথচারীদের।

নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় আদমদীঘির মুরইল থেকে সান্তাহারের বশিপুর বাইপাস পর্যন্ত সড়ক বেহাল হয়ে আছে। ৯ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে সান্তাহারসহ নওগাঁর ১১ উপজেলার কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে । বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে বড় চালের মোকাম নওগাঁ জেলায় হওয়ায় এখান থেকে প্রতিদিন চাল বোঝাই কয়েকশ ট্রাক এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এ ছাড়া মাছ ও চাল সমৃদ্ধ উপজেলা আদমদীঘি থেকেও অসংখ্য যানবাহনকে এই সড়ক ব্যবহার করতে হয় ।

সড়কের পুরো অংশ জুড়ে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় খানাখন্দে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত তিন বছরে চলাচল অযোগ্য সড়কে দুর্ঘটনায় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়ে পুঙ্গতবরণ করতে হয়েছে বহু মানুষকে। প্রায় খানাখন্দে উলটে না হয় আটকে গিয়ে বিকল হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকে পণ্য বা যাত্রীবাহী ট্রাক, বাস, ট্রাক্টর, সিএনজি চালিত অটোরিকসাসহ বিভিন্ যানবাহন। এতে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয়। সান্তাহার শহরের বিশিষ্ট চাল ব্যবসায়ী ও বৈশাখী অটোচালকলের মালিক ইসমাইল হোসেন ও আরিফ চালকলের মালিক রেজাউল ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় আমরা ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছি। ভাঙা ও চলাচল অযোগ্য এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে আমাদের চরম ক্ষতির মুখে পরতে হচ্ছে। রাস্তার ভাঙা অংশে পড়ে গিয়ে আমাদের যানবাহন একের পর এক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া রাস্তা খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের অনেক বেশি পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে।  আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, রাস্তার দুরাবস্তার কারণে এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ কারণে রাস্তার নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে ।

বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, জনভোগান্তি এবং প্রতিনিয়ত ঘটনা-দুর্ঘটনার বিষয়টি আমাদেরকেও ভাবিয়ে তুলেছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে ৯ কিলোমিটার অংশের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) এলাকার জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই সড়কে দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, বহুবার কাজ শুরুর কথা বলা হলেও  কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, সড়কটির বিষয়ে নওগাঁ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরাও তার কাছে দুর্ভোগের কথা বলেছেন।