g শিমুল শাহিন
ঘরে ঢুকতেই পিত্তি জ্বলে গেল। কেউ একজন প্রায় সবকিছু উল্টে পাল্টে রেখেছে! এমনিতেই আমার ঘরে তেমন কেউ ঢোকে না। তারপরেও দরজাতে বেশ বড় বড় করে লিখে রেখেছি ‘সাধারণের প্রবেশ নিষেধ’! ঘর পরিষ্কার আর গুছানোর জন্য আম্মু আর বড় আপুরই শুধু আমার ঘরে অবাধ যাতায়াত আছে! ঘরের এমন অবস্থা দেখে তাই চিত্কার করে আম্মু আর বড় আপুকেই ডাকলাম। চিত্কার শুনে উনারা দুজনেই ছুটে এলেন। কিঞ্চিত্ রেগে গিয়ে আম্মু বললেন, ‘কীরে গাধার মতো এত চেঁচাচ্ছিস কেন?’
এমনিতেই মেজাজটা বিগড়ে আছে তার ওপর আম্মুর এমন কথা শুনে তা আরও চড়ে গেল, ‘গাধা জোরে জোরে চিত্কার করে এমন ভুল কথা তোমাকে কে বলেছে? গাধা অতি নিরীহ প্রাণী—এরা চুপচাপ থাকে!’
‘আচ্ছা হয়েছে, আমার পেট থেকে বিরাট প্রাণী বিশেষজ্ঞ জন্মেছে দেখছি! তা কী হয়েছে বল?’
‘কী হয়েছে মানে? ঘরে ঢুকেও কিছু বুঝতে পারনি?’
আম্মুকে থামিয়ে দিয়ে আপু বললেন, ‘তা তো দেখতেই পাচ্ছি! এ কী করে রেখেছিস ঘরের অবস্থা!’
‘আমি করিনি তো, সেজন্যই তো ডাকলাম তোমাদের!’
মা বললেন, ‘এ নিশ্চয়ই ইঁদুর মহাশয়ের কাজ!’
তারপর তিনজন মিলে একে একে আবিষ্কার করলাম ইঁদুর শুধু সবকিছু উলট-পালট করেই ক্ষান্ত হয়নি, আমার মুঠোফোনের অরিজিনাল হেডফোনটা থেকে শুরু করে লুঙ্গি, মানিব্যাগ এমনকি আমার সদ্য কেনা শখের দামি পাঞ্জাবিটা পর্যন্ত কুঁচি কুঁচি করে কেটে ফেলে রেখে গেছে সে!
ইঁদুরের এসব কীর্তি দেখে বেশ কিছুক্ষণ মন খারাপ করে বসে থাকলাম। নতুন পাঞ্জাবিটার জন্য আমার মন খারাপ ভেবে আম্মু সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘মন খারাপ করিস না, টাকা দেব, নতুন আরেকটা পাঞ্জাবি কিনে নিস!’
তারপরও আমার ভাবান্তর না দেখে বড় আপু আমার মন খারাপকে পাত্তা না দিয়ে বলল, ‘আরে তোমার ছেলের ওই পাঞ্জাবির জন্য মন খারাপ হয়েছে ভাবছ? ওর মন খারাপের কারণ তো অন্য!’
অবাক হয়ে মা বললেন, ‘কী কারণ?’
বড় আপু মুচকি হেসে বলল, ‘খেয়াল করে দেখো ঘরের সবকিছুতে এক-আধটু কামড় মেরে গেছে ইঁদুরে, কিন্তু ওর পড়ার বইগুলো একটু ছুঁয়েও দেখেনি ওরা! এ জন্যই তোমার ছেলের মন খারাপ নিশ্চয়ই!’
বুঝতে আর বাকি রইল না ইঁদুরটা শুধু আমার সব জিনিসপত্তর নষ্ট করে দিয়েই যায়নি, আমাকে খোঁচা মারার মোক্ষম একটা ক্ষেত্রও তৈরি করে দিয়ে গেছে! এতদিন ছোট ভাই শাওনকে ঘরে ঢুকতে দিইনি! সেও সুযোগ পেয়ে পাশের ঘর থেকে এসে বড় আপুর সঙ্গে তাল মেলালো, ‘মন খারাপ করছ কেন ভাইয়া? তোমার ঘরে তো সাধারণদের ঢুকতে নিষেধাজ্ঞা ছিল, ইঁদুরটা নিঃসন্দেহে নিজেকে অসাধারণ মনে করত বলেই না তোমার ঘরে ঢুকেছে!’
রাজশাহী
