শেরপুরে ভাতার কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে হতদরিদ্র নারীকে ধর্ষণ

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৯

বগুড়ার শেরপুরে সরকারি ভাতার কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হতদরিদ্র নারীকে ধর্ষণ করেছে এক গ্রাম্য মাতব্বর। এ ঘটনার শিকার স্বামী পরিত্যক্তা ঐ নারী বাদি হয়ে গতকাল রবিবার গ্রাম্য মাতব্বর কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার করেছেন। কামরুল ইসলাম উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের চকখানপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে এবং ঐ গ্রামের প্রধান মাতব্বর হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার চকখানপুর গ্রামের দিনমজুরের ঐ মেয়ে (২৮) স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। বাবার অভাব অনটনের সংসারে মেয়েটি জীবিকার তাগিদে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঝি-য়ের কাজ করেন। মেয়েটির এই অসহায়ত্বের সুযোগ নেন গ্রামের মাতব্বর কামরুল ইসলাম। তিনি ভাতার কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করেন। কিন্তু সম্ভ্রমহানির পরও মেয়েটি ভাতার কার্ড পায়নি। এ অবস্থায় গত শনিবার রাতে আবারও মেয়েটির বাড়িতে যান কামরুল ইসলাম এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এতে রাজী না হওয়ায় মেয়েটিকে মারধর করেন ঐ মাতব্বর। এরপর ঘটনাটি এলাকায় ফাঁস হয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাটিকে শালিসের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এক্ষেত্রে জরিমানা হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকাও দিতে চাওয়া হয় মেয়েটিকে। তবে শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নেন ভুক্তভোগী এই নারী।

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেয়েটির অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।