মধ্যরাতে বিচারপতির আদেশে ঘরে ফিরল সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেলের নাতিরা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৮

শনিবার মধ্যরাত। বেসরকারি টিভি চ্যানেল একাত্তরে একটি নিউজের স্ক্রল চলছিল। সেখানে বলা হচ্ছিল সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কে এস নবীর দুই নাতি তাদের বাবার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে পারছে না। তাদের ঘরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে আপন চাচা ব্যারিস্টার রেহান নবী। এ নিয়ে ঐ টিভির টকশো অনুষ্ঠান একাত্তর জার্নালে আলোচনা হয়। তখন বিষয়টি নজরে আসে হাইকোর্টের বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের। এর পরই তিনি ঐ শিশু দুটিকে তাদের পিতার ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ধানমন্ডি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ঐ আদেশ প্রতিপালন করে তা গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে আদালতকে প্রতিবেদন আকারে জানাতে ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঐ নির্দেশ পেয়েই আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে রাত দেড়টায় দুই শিশুসহ তাদের মা এবং এক গৃহকর্মীকে ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেয় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। পরে গতকাল বেলা ৩টায় এ বিষয়ে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে ধানমন্ডি মডেল থানার ওসি মো. ইকরাম আলী মিয়া আদেশ প্রতিপালন-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমাকে আদেশ প্রদান করেন যে, মরহুম ব্যারিস্টার কাজী সিরাতুন নবীর দুই সন্তান কাজী নাহিয়ান নবী (১৬) ও কাজী আদিয়ান নবীকে (১১) তাদের মা শাহনাজ নবীসহ ধানমন্ডির নিজস্ব ফ্ল্যাটে নিরাপদে পৌঁছে দিয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। ঐ আদেশ পেয়ে পুলিশ ফোর্স নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। কিন্তু শাহনাজ নবী ও তার দুই সন্তান সেখানে উপস্থিত ছিল না। আমি মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং বলি বাসার সামনে আসতে। তারা রাত দেড়টার দিকে আত্মীয়স্বজনসহ ঐ বাড়ির গেটে উপস্থিত হন। আত্মীয়স্বজন এবং ঐ দুই শিশুর চাচা ব্যারিস্টার কাজী রেহান নবীর উপস্থিতিতে চার জনকে নিরাপদে তাদের নিজস্ব ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেই। এর পর রেহান নবী ও বাসার সবাই নিরাপত্তাকর্মীকে অনুরোধ করি, মা ও শিশুদের যথাযথ নিরাপত্তার বিষয়টি খেয়াল রাখার জন্য। এছাড়া ধানমন্ডি মডেল থানার জরুরি ডিউটি টিমকেও বাড়ির আশপাশে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দেই।’

এরপর হাইকোর্ট এ বিষয়ে শুনানি শেষে আগামী ১১ অক্টোবর ঐ দুই শিশু ও তার চাচা রেহান নবীকে আদালতে তলব করেন। ঐদিন তাদের উপস্থিতিতে বক্তব্য গ্রহণ করে এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।  জানা গেছে, ধানমন্ডির ৭/এ, সড়কের একটি চারতলা বাড়ির মালিক সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কে এস নবী। তার দুই ছেলে ব্যারিস্টার রেহান নবী ও ব্যারিস্টার কাজী সিরাতুন নবী। গত ১০ আগস্ট সিরাতুন নবীর মৃত্যুর পর তার দুই শিশু পুত্র মায়ের কাছে যায়। যদিও তাদের মায়ের সঙ্গে বাবার আগেই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এর পর মায়ের কাছ থেকে নিজ পিত্রালয়ে ফেরার চেষ্টা করে ঐ দুই শিশু। কিন্তু তাদের আর বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি তাদের চাচা রেহান নবী। জানানো হয় ধানমন্ডি থানা পুলিশকে। পুলিশ চেষ্টা করেও তাদের বাসায় উঠিয়ে দিতে ব্যর্থ হন।

এর পরই গত শনিবার মধ্য রাতে হাইকোর্টের বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান নিজে মোবাইল ফোনে আদেশ প্রতিপালনে ওসিকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমানও আদালতের আদেশের বিষয়টি প্রতিপালন করতে ধানমন্ডি থানার ওসিকে অবহিত করেন।

আদেশের বিষয়ে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘আমি বাচ্চা দুটির অধিকার সম্পর্কে কথা বলতে একাত্তর জার্নালের লাইভে যুক্ত ছিলাম। ঐ লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমটো) হয়ে ঐ আদেশ দেয়।