মালয়েশিয়ায় অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ে শ্যালক-দুলাভাই সিন্ডিকেট

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২০, ০৩:০৪

কামরুল ইসলাম ও রহিম সর্দার। সম্পর্কে শ্যালক-দুলাভাই। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানার তারাপাল্লা। তারা প্রায় দেড় দশক ধরে আছে মালয়েশিয়াতে। এর মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে তারা মালয়েশিয়াতে অবস্থানকারী প্রবাসীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছে। আর এ মুক্তিপণের টাকা আদায় হচ্ছিল বাংলাদেশে বিকাশের মাধ্যমে। সিআইডির হাতে গ্রেফতারকৃত ছয় জন এ তথ্য জানিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো—রাসেল খন্দকার, শাহানাজ বেগম, সুমন ভুঁইয়া, মো. বেলাল বিন কারী, আরিফ হোসেন ও জাবেদ হোসেন। এদের মধ্যে রাসেল বাদে সবাই রবিবার আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। শরীয়তপুরের জাজিরা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে করা মামলার পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. মিজানুর রহমান।

ঘটনা সম্পর্কে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, শরীয়তপুরের জাজিরা থানার সেনেরচর গ্রামের জাহাঙ্গীর মল্লিক গত আট বছর ধরে মালয়েশিয়া প্রবাসী। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এলাকার পুতুং এলাকায় এসি মেরামতের কাজ করেন। সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে এসেছিলেন। গত ১৮ জুন কাজ শেষে (মালয়েশিয়ায়) বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। আর এ সময় কামরুল ইসলাম ও রহিম সর্দার সেখান থেকে তাকে ডেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রাখে। পরে তার (জাহাঙ্গীর) মোবাইল দিয়ে বাংলাদেশে তার ভাই আলমগীর মল্লিকের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আর টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ অবস্থায় ভাইয়ের প্রাণ বাঁচাতে অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ৮ লাখ টাকা পাঠানো হয়। আর টাকা পাওয়ার পর নেশাজাতীয় খাবার খাইয়ে জাহাঙ্গীরকে নির্জন রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় আলমগীর মল্লিক জাজিরা থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত ন্যস্ত করা হয় সিআইডিতে।

এসআই মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শাহানাজ বেগম অপহরণকারী কামরুলের আপন বোন, বেলাল বিন কারী সম্বন্ধি, আরিফ হোসেন বিকাশ এজেন্ট, রাসেল প্রতিবেশী।

সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি মিডিয়া) জিসানুল হক জানান, গ্রেফতারকৃতরা সবাই সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য। এ চক্রের কিছু সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে সেখানকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের অপহরণ করে আটকে রাখত। এরপর মারধর করে এর ভিডিও ধারণ করে স্বজনদের কাছে পাঠাত। পরে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করত। আর এ চক্রের গ্রেফতারকৃত সদস্যরা দেশে বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে এ অর্থ নিত।

ইত্তেফাক/এসআই