নাইক্ষ্যংছড়িতে পেঁপে চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৯

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পেঁপে চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। পেঁপের বাজারমূল্য বিগত সময়ের তুলনায় ভালো পাওয়ায় তামাকের বিকল্প হিসাবে অনেক কৃষক পেঁপে চাষকে বেছে নিয়েছে। উপজেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, সোনাইছড়ি, বাইশারী ও দোছড়ি ইউনিয়নসহ বাঁকখালী এবং আশারতলী এলাকায় পেঁপে চাষির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোনাইছড়ি ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ার মার্মা কৃষক উছাইমং মার্মা জানান, বিগত বছর তামাক চাষ করে বিঘাপ্রতি ১৭ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। বর্তমানে একই জমিতে পেঁপে চাষ করে বিঘাপ্রতি ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভবান  হয়েছে। এছাড়া একই ইউনিয়নের থোয়াইহ্লারী মার্মা, ক্যওয়াং মার্মা, লোয়াইছা মার্মা ও চাইহ্লাথোয়াই মার্মা পেঁপে চাষ শুরু করেছেন। এছাড়াও হেডম্যান পাড়ায় পূর্বে প্রচুর তামাক চাষ হতো। বর্তমানে এই এলাকার চাষিরা পেঁপে চাষে ঝুঁকে পড়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তাসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, চাষিরা তামাক কোম্পানির কাছ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা পাওয়ায় ও বাজারজাত নিশ্চিত হওয়ায় তামাক চাষে ঝুঁকে পড়েছে। কৃষি বিভাগ তামাকের বিকল্প হিসাবে পেঁপেসহ রবিশস্য ও বোরো চাষে চাষিদের আগ্রহী করে তুলছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পেঁপে চাষিদের সার্বিক প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলে তামাক চাষের পরিবর্তে দিন দিন পেঁপে চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে, বাঁকখালী কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা জানান, সে এলাকার কৃষকরা লেবু চাষ ও ভুট্টায় লাভজনক হওয়ায় সেদিকে ঝুঁকছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি জানান, তামাক চাষে চাষিদেরকে নিরুত্সাহিত করার জন্য প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। ব্যাংক থেকে চাষিদেরকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ চাষিদের ঘরে ঘরে গিয়ে উদ্বুদ্ধ করছে।