ভেন্যু-সময় কমছে
স্পোর্টস রিপোর্টার
আগামী ১৮ জানুয়ারি মাঠে গড়াচ্ছে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ। আর একদিনও লিগ পেছাবে না বলে জানিয়েছে লিগ কমিটি। গতকাল সন্ধ্যায় লিগ কমিটির সভা শেষে জানিয়ে দেওয়া হয় ঘোষিত খসড়া ফিকশ্চার অনুযায়ী লিগের খেলা হবে। প্রিমিয়ার লিগের নবাগত দল নোফেল স্পোর্টিং ক্লাব আবেদন জানিয়েছিল এক সপ্তাহ লিগ পেছানোর জন্য। তাদের দাবি মাঠ প্রস্তুত হয়নি। কিন্তু গতকাল লিগ কমিটির সভায় ১৩ দলের মধ্যে ১২ দলই লিগ পেছানোর বিপক্ষে ছিল।
১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ও নোফেল মুখোমুখি হবে। লিগ না পেছালেও ভেন্যু কমে গিয়েছে। এতদিন চট্টগ্রাম আবাহনীর ভেন্যু নিয়ে কথা হয়েছে। চট্টগ্রাম আবাহনীর ভেন্যু চট্টগ্রাম এমএ আজীজ স্টেডিয়ামে খেলা হবে না। মাঠ অন্য কাজে ব্যস্ত থাকবে। গতকাল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী জানিয়েছেন ফরিদপুর ভেন্যুতে খেলা হবে না। কারণ সেখানে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। শেষ হতে একমাস লাগবে। তা ছাড়া সেখানে পিচ তুলে ফেলতেও দেবে না স্থানীয় সংগঠকরা। পিচ না তুললে বৃষ্টির সময় খেলা হলে কাদায় পিচের ভেতরে পা গেঁথে যাবে। তাই শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ফরিদপুর ভেন্যু বাতিল। শেখ জামালের ভেন্যু এখন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ভেন্যু হচ্ছে আবাহনী, মোহামেডান, ব্রাদার্স, রহমতগঞ্জ, চট্টগ্রাম আবাহনী।
৮ ভেন্যু হতে এখন ৬ ভেন্যুতে খেলা হবে। যেসব কারণ দেখিয়ে ভেন্যু বাতিল করা হয়েছে সেটার সঙ্গে মিল নেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। ক্রীড়া পরিষদ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম সহ ৮ ভেন্যুতে ফুটবল লিগের খেলা আয়োজনের জন্য বাফুফেকে চিঠি দিয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ হতে বাফুফেতে ৮ ভেন্যুর নাম লিখে চিঠি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম এমএ আজীজ স্টেডিয়াম, ময়মনসিংহে রফিক উদ্দিন ভুইয়া স্টেডিয়াম, গোপালগঞ্জে শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়াম, নীলফামারীতে শেখ কামাল স্টেডিয়াম, নোয়াখালীতে শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম, ফরিদপুরে শেখ জামাল স্টেডিয়াম এবং সিলেটে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম। ২৫ ডিসেম্বর হতে ২৪ জুন পর্যন্ত বাফুফের অনুকূলে মাঠ বরাদ্দ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তারপরও দুই ভেন্যু বাতিল করে লিগ কমিটি। চট্টগ্রাম আবাহনী ঢাকায় ক্যাম্প করে আসছে সব সময়, তাদের কর্মকর্তারাও ঢাকায় বসবাস করেন।
লিগের সময় কমিয়ে আনতে কাল জানানো হয়েছে তিন দিনের পরিবর্তে চারদিন খেলা হলে সময়টাও কমে আসবে। জুলাইয়ে শেষ হবে খেলা। শীত মৌসুমে ফুটবল লিগ হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। এবারও লিগ শেষ হবে বর্ষা মৌসুমে। জুলাইয়ের মাঝমাঝি শেষ বলা হলেও জাতীয় দলের খেলা, অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দলের খেলা, আবাহনীর এএফসি কাপের খেলা রয়েছে। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘এবার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু হয়নি। আগামীতে শীত মৌসুমেই খেলা হবে।’ কিভাবে হবে সেই ব্যাখ্যা করেননি তিনি। ক্লাব কর্মকর্তা ব্রাদার্সের ফুটবল ম্যানেজার আমের খান অবশ্য বলেছেন, ‘খেলাটা বৃষ্টি মৌসুমেই হচ্ছে। আমরা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি। তা না হলে আরও একটি মৌসুম নষ্ট হয়ে যাবে। বৃষ্টি মাঠে আফ্রিকান ফুটবলার শক্তি ব্যবহার করতে পারেন। এখন আফ্রিকান ফুটবলার কম। ভারী মাঠের চাপ নিতে পারবে না।’
লিগের স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কাছ হতে তিন লাখ ডলার পাওয়া যাবে। যার বেশির ভাগই ক্লাবগুলোকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শেখ রাসেলের কর্মকর্তা সালেহ জামান সেলিম। তিনি বলেন, ‘১৫ হতে ২০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।’
