কীর্তিনাশায় ১০ স্থানে ভাঙন ঝুঁকিতে কোটাপাড়া সেতু

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২০, ২১:০৮

শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে সড়ক। ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া সেতুটি ঝুঁকিতে পড়ায় উদ্বিগ্ন এলাকার মানুষ। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কীর্তিনাশা নদীর ১০টি স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলছে। আর স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের জন্য ৪৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।

শরীয়তপুর পাউবো ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মা নদীর নড়িয়া থেকে কীর্তিনাশা নদীর প্রবাহ শুরু। নড়িয়া ও সদর উপজেলার ওপর দিয়ে নদীটি মাদারীপুর সদরের রাজারচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। নড়িয়া ও সদর উপজেলার ১০টি স্থানে এ বছর কীর্তিনাশা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে নড়িয়ার বৈশাখিপাড়া, পাঠানা বাড়ী, ভোজেশ্বর, চান্দনি, শরীয়তপুর সদরের পূর্ব কোটাপাড়া, কোটাপাড়া বাজার, চর ডোমসার, রাজগঞ্জ, চর স্বর্ণ ঘোষ ও দাদপুর এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলছে পাউবোর ঠিকাদাররা। গত চার-পাঁচ দিন যাবত্ পদ্মা নদীতে পুনরায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঐ পানির চাপ ও স্রোত বেড়েছে কীর্তিনাশায়। ভাঙনকবলিত ঐ স্থানগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। সদরের কোটাপাড়া এলাকায় আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। পূর্ব কোটাপাড়া-প্রেমতলা সড়কটির কিছু অংশ ভাঙনে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কীর্তিনাশা নদীতে থাকা কোটাপাড়া সেতুটি।

বুধবার কীর্তিনাশা নদীর তীরের কোটাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন ঠেকানোর জন্য বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। পূর্ব কোটাপাড়া-প্রেমতলা সড়কের একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে ঐ ভাঙা সড়ক দিয়েই যানবাহন চলছে। ভাঙনের ঐ স্থান থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়ক। সড়কের ঐ স্থানে রয়েছে ১১০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু। পূর্ব কোটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এ এলাকায় নদীভাঙন ছিল না। দুই বছর যাবত্ অল্প অল্প করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ বছর ভাঙনে আমাদের জমি ও সড়কের অংশ বিলীন হয়েছে। এখন আবার ভাঙনে সড়কের অংশ বিলীন হওয়ায় আমরা ভয়ের মধ্যে আছি। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে ঢাকায় যাতায়াতের সড়কের একটি বড় সেতু। পূর্ব কোটাপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই নদীর তীরে বাজার। কখনো ভাঙনের আতঙ্ক ছিল না। এবছর হঠাত্ করে বাজারের অংশে নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালুর বস্তা ফেলানো হয়েছে, তাতে টিকবে মলে মনে হয় না। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, কীর্তিনাশার যে স্থানগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। কীর্তিনাশার তীর রক্ষা ও খনন করার প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। জানতে চাইলে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, কীর্তিনাশা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয় থেকে যাচাই-বাছাই করে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে নদীর তীর রক্ষা, খনন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ হবে। ঐ প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে অনুমোদন হলে দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে।