দেশ জুড়ে ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মধ্যেই একের পর এক ধর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সিলেটের এমসি কলেজ কাণ্ডের পর এবার চট্টগ্রাম নগরীতে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তাকারী এক নারীসহ আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ছয় জেলায় ১০ নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম অফিস জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী মেয়েটি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা থেকে সিএনজিযোগে এসে নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথায় সিএন্ডবি মোড়ে নামেন। সেখান থেকে চকবাজারে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে একটি রিকশায় ওঠেন। সাড়ে ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা মৌলবী পুকুর এলাকায় রিকশা থেকে তরুণীকে নামিয়ে পাশের গলিতে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ভোরের দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে চান্দগাঁও থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকালে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) বিজয় কুমার বসাকের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২২ বছরের তরুণীকে সাত জন দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। তাদেরকে সহযোগিতা করে এক নারী। চান্দগাঁও থানাপুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে। এরা হলো—সিএনজিচালক জাহাঙ্গীর আলম, সিএনজিচালক মো. ইউসুফ, বখাটে মো. রিপন, বখাটে মো. সুজন, সিএনজিচালক দেবু বড়ুয়া ওরফে জোবায়ের হোসেন, দোকানদার মো. শাহেদ, সিএনজিচালক রিন্টু দত্ত প্রকাশ বিপ্লব এবং গৃহবধূ পরিচয় প্রদানকারী মনোয়ারা বেগম ওরফে লেবুর মা।
আশুলিয়ায় তিন শিশু ও এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার!
আমাদের সাভার রিপোর্টার জানান, আশুলিয়ায় পৃথক দুটি ঘটনায় যমজ বোনসহ তিন শিশু ও এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার আশুলিয়ার তৈয়বপুর উত্তর মোল্লাপাড়া এলাকায় ঐ তিন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার দুই দিন পর এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা হেলাল উদ্দিন শেখকে (৫৭) গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকালে যমজ শিশু দুটির বাবা মামলা করেছেন। হেলাল উদ্দিন শেখের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার ছয়ানী রসুলপুর গ্রামে।
এদিকে আশুলিয়ার রুস্তমপুরে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতিত গৃহবধূর মামলার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে রুস্তমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরা হলো—রাজশাহী জেলার রাজাপাড়া থানার শ্রীরামপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম, রুস্তমপুর এলাকার পাপ্পু সাহা, একই এলাকার মিলন, জ্যোতির্ময় সাহা ও অন্তর। তারা গৃহবধূকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম জিয়া। পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঐ গৃহবধূকে মিরপুর থেকে রুস্তমপুরে ডেকে এনে একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে সাত বন্ধু পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে জানা গেছে।
দুই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, প্রতিবেশী দুই ব্যক্তি বাসায় ডেকে এনে সংঘবদ্ধভাবে চতুর্থ শ্রেণিপড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের চরাঞ্চল বাসুদেবকোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে দুই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মামলা করলে রাতেই গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত ইসমাইল পলাতক রয়েছে।
বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ!
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, গত বুধবার রাতে বন্ধুকে দিয়ে জোরপূর্বক নিজের স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর অভিযোগে লম্পট স্বামী রাশেদ মিয়াকে (৩০) গ্রেফতার করেছে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ। শুক্রবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ধর্ষক মোশারফ হোসেন পলাতক রয়েছেন। উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের বিনোদের চর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
শিশু ধর্ষণকারী আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার
ফেনী প্রতিনিধি জানান, গত ১ অক্টোবর সোনাগাজীতে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে তমিজ উদ্দিন নয়ন নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের চুনি মাঝি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে ঐ গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদের ছেলে ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। এদিকে গ্রেফতারের পর আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে নয়নকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তমিজ ঐ ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবদুর রহিম সরকার ।
স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণ!
হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার হরণী ইউনিয়নে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী (২৫) গতকাল শুক্রবার ধর্ষণ ও গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত মো. ইউছুফ ওরফে ইউছুফ ডুবইকে (৪০) গ্রেফতার করেছে। হাতিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে একই এলাকার ইউছুফ ঘরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঐ নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। অন্তঃসত্ত্বা হলে ইউছুফ তাকে চিকিত্সার কথা বলে জেলা শহরে নিয়ে কৌশলে গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করে। পরে তাকে বিয়ে করতেও অস্বীকৃতি জানায়।
প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে ধর্ষণ !
বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার গোগা ইউনিয়নের আমলাই গ্রামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে (৩৩) ধর্ষণের অভিযোগে শার্শা থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে ঐ গৃহবধূ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন। মামলায় অভিযুক্ত ঐ গ্রামের নুরালী মোড়লের ছেলে আব্দুল গফফার পলাতক রয়েছেন।
যশোরে বাসে ‘ধর্ষণ’ নিয়ে ধূম্রজাল
যশোর অফিস জানায়, বাসের মধ্যে এক তরুণীকে (২৫) ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’ নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তরুণীটির দাবি, তাকে বাসের মধ্যে একাধিক লোক ধর্ষণ করেছে। স্বামী পরিত্যক্তা ঐ তরুণী রাজশাহীর একটি ক্লিনিকে আয়ার চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাবার বাড়ি মাগুরায় আসার জন্য রাজশাহী থেকে এমকে পরিবহনের একটি বাসে (যশোর-ব ১১-০১২৪) ওঠেন। বেশ রাতে বাসটি যশোরে পৌঁছালে এ ঘটনা ঘটে। বর্ণিত ঘটনায় জড়িতদের আটক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ঐ তরুণী।
তবে পুলিশ বলছে এটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা নয়, বরং প্রেমিকের সঙ্গে স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার ঘটনা বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশ তরুণীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। কথিত প্রেমিক হেলপার মনির ও ঘটনাস্থলে থাকা আরো পাঁচ বাস শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
