ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলো প্রতিপক্ষ

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ১৬:০৫

জমিজমার বিরোধের জের ধরে অটো চালককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে প্রতিপক্ষই ফেঁসে গেলো। ইয়াবা চক্রের আবুল হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি দুইজন পলাতক রয়েছেন।

শনিবার সকালে বরগুনার তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

এ ঘটনায় জড়িত আবুল হোসেন (২৭), নিজাম জোমাদ্দারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আবুল হোসেন উপজেলার ঠং পাড়া এলাকার মো. ইউসুফ আলীর পুত্র। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মৌরুবী এলাকার জহিরুলের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার জাহাঙ্গীর জোমাদ্দার ও ফারুক জোমাদ্দারসহ তাদের পরিবারে জমিজমার বিরোধ চলে আসছিলো। এর জের ধরে ফারুক জোমাদ্দারের ছেলে নিজাম জোমাদ্দার তাদের প্রতিপক্ষ খলিল মুন্সীর ছেলে জহিরুলকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন। 

নিজাম জোমাদ্দার আবুলসহ ও তার সহযোগীদের চার হাজার টাকার চুক্তি করেন। এরপর ১০ অক্টোবর শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার সদর রোডের বাসস্টান্ড এলাকায় জহিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অটো-বোরাক থামিয়ে একটি দোকান থেকে মালামাল ক্রয়ের জন্য যায়। এই সুযোগে ৩ পিস ইয়াবা ও ৫ গ্রাম গাঁজা জহিরুলের অটো-বোরাকের সিটের নিচে রাখেন আবুল হোসেন ও তার তিন সহযোগী। 

এরপর পুলিশকে খবর দেয় আবুল। পুলিশ গিয়ে সিটের নিচ থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করে জহিরুলকে আটক করে। 

এদিকে জহিরুলকে আটকের পরে বিষয়টি পুলিশের সন্দেহ হলে তথ্যদাতা আবুল হোসেনকে শুক্রবার রাতেই আটক করে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসা করেন। পরে তিনি বলেন জহিরুলের পরিবারের সঙ্গে জমিজমার বিরোধের জেরে তাদের প্রতিপক্ষরা নিজাম জোমাদ্দার ৪ হাজার টাকা দেয়। ঐ টাকা দিয়ে ইয়াবা ও গাঁজা কিনে গাড়িতে রেখে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। 

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, জহিরুল ইসলাম নামের একজনকে ৩ পিস ইয়াবা ও ৫টি গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, জহিরুল মাদকের সঙ্গে জড়িত না। যারা মাদকের তথ্য দিয়েছে তারাই গাড়িতে মাদক রেখে জহিরুলকে ফাঁসিয়েছে। তাদের জমিজমা নিয়ে ঝামেলা ছিলো। এরই জের ধরে তারা জহিরুলকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। 

ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় জড়িত আবুল হোসেন ও নিজামা জোমাদ্দারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদক মামলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বাকি দুই জনের নাম বলা যাচ্ছে না। এই দুইজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।  আর নির্দোষ জহিরুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ