ইইউবিতে ‘করোনা পরবর্তী ক্যারিয়ার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ২১:০২

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর বিজনেস অ্যাডমিন্সট্রেশন ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে ‘করোনা পরবর্তী ক্যারিয়ার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার রাশিদা স্বরলিপির সঞ্চালনায় ভার্চ্যুয়াল গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, ডাইরেক্টর-ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের অ্যাসোসিয়েট ডিন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ড. ফারজানা আলম, ফুয়াং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার কাজী রাফি, বাংলাদেশ জার্নালের ভারপ্রাপ্ত নিউজ এডিটর জুবায়ের আহমেদ নবীন, তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক ইসরাত আলী, ইইউবির সিনিয়র লেকচারার মুশফিকা বিনতে কামাল, ইইউবির সিনিয়র লেকচারার, খন্দকার রাহাত মোর্শেদ।

আলোচনায় ড. ফারজানা আলম বলেন, আমরা এমন একটা সময়ে আছি যারা চাকরি ক্ষেত্রে আছি তাদের অনেকে চাকরি হারাচ্ছেন। কারণ নিউ নরমল জীবনে চাকরির বাজার ছোট হয়ে আসছে। যারা নতুন চাকরিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন তাদের জন্য সামনের দিনগুলো আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু ক্যারিয়ার চ্যালেঞ্জ সব সময় ছিল। আমি যতদূর জানি যে, ক্লাস সেভেন থেকে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং বা ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং কোর্স শুরু হয়। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিজনেস অ্যাডমিন্সট্রেশন ডিপার্টমেন্টও ঠিক এ কাজটি করে। আজকের আলোচনায় যারা অংশ নিচ্ছেন তারা প্রত্যেকে যে যার জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের সঠিক পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার উদ্দেশ্যে আজকের আয়োজন। 

মুশফিকা বিনতে কামাল বলেন, করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে আমরা টেকনিক্যালি অনেক বেশি আপডেটেড, যেটা আগে ছিলাম না। ট্রেডিশনালি আমাদের যে  শিক্ষাব্যবস্থা ছিলো সেখান থেকে আমাদের নতুন দিকে যাত্রা শুরু হয়েছে। ক্লাস পদ্ধতি এখন ডিজিটাল, এতে শিক্ষার্থীরা দেশ বিদেশের বিভিন্ন ভার্চ্যুয়াল ট্রেনিংয়েও সহজে যুক্ত হতে পারছে। শিক্ষার্দের এ সুযোগ গ্রহণ করা উচিত।

আলোচনায় জুবায়ের আহমেদ নবীন বলেন, কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন হলেও নিজের সঙ্গে থাকে জ্ঞান বা নলেজ। প্র্যাকটিক্যাল এবং থিওরিটিক্যাল নলেজের মধ্যে অনেক বড় একটি গ্যাপ আছে। প্র্যাকটিস করতে করতে মানুষ অভিজ্ঞ হয়, আর যে পড়াশোনা করে আসে সে কর্মক্ষেত্রে এসে প্রাকটিক্যাল নলেজ অর্জন করে। দুটোর সংমিশ্রণ যখন ঘটে তখন একজন মানুষ তার কাজের জন্য পারফেক্ট হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছায়। পুরোপুরি পারফেক্ট হওয়ার জন্য এ নলেজ বা জ্ঞানের সঙ্গে ভালোবাসার সংমিশ্রণ ঘটানো জরুরি। 

ইসরাত আলী বলেন, অনলাইনে  ক্লাস নেয়া হচ্ছে এটা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সবার জন্যই নতুন অভিজ্ঞতা। এর জন্য ডিজিটাল ডিভাইস উভয়েরই দরকার হচ্ছে। এ সময়ে একজন শিক্ষক বা একজন শিক্ষার্থীর কাছে ডিজিটাল ডিভাইস না থাকা মানে পুরো সিস্টেম থেকে ঝরে পড়া। সঙ্গে ইন্টারনেটের সংযোগতো থাকতে হবেই। শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ থাকে গ্রামে। তাদের জন্য ইন্টারনেট সুনিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে না। এ জন্য সরকারকে আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে।

খন্দকার রাহাত মোর্শেদ বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন অনলাইনে ফ্রি-অব কস্টে অনেক ট্রেনিং অফার করছে, আমরা মনে হয় শিক্ষার্থীদের এসব ভার্চ্যুয়াল ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করা উচিত। এ কোর্সগুলো তাদেরকে জব ফিল্ডে নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে সহায়তা দেবে। তবে মনে রাখতে হবে,  এখন জব মার্কেটে অনেক বেশি প্রয়োজন কমিউনিকেশন স্কিল এবং প্রেজেনটেশন স্কিল। এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের বিকল্প নেই।

ইত্তেফাক/বিএএফ