গ্যাসপাইপ নিয়া উদাসীনতার দুঃখজনক দৃষ্টান্ত

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩০

দাহ্যগ্যাস যে কতখানি বিপজ্জনক, তাহা সাধারণ মানুষও জানেন। একটি বিলে ড্রেজার দিয়া মাটি কাটিবার কারণে গ্যাস ট্রান্সলেশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) প্রায় ১৫০ ফুট গ্যাসপাইপ লাইন তিন বত্সর ধরিয়া ঝুলন্ত অবস্থায় রহিয়াছে! ঘটনাটি ঘটিয়াছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুরেরকান্দায়। এই তিন বত্সর ধরিয়া অত্রাঞ্চলের আশপাশের নয়টি গ্রামের মানুষ বসবাস করিতেছেন আতঙ্কের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট গ্যাস অফিস হইতে সময়ে সময়ে কয়েক দফায় লোকজন আসিয়া দেখিয়া গেলেও তাহারা পাইপটির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। গ্যাসের কাজে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানাইয়াছেন যে, ১৭ ইঞ্চি পুরুত্বের এই পাইপটির ভিতর দিয়া ৩২ হাজার ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হইয়া থাকে। কোনো কারণে পাইপটি ভাঙিয়া গেলে বা লিকেজ হইয়া বিস্ফোরিত হইলে আশপাশের ৮-১০ গ্রামের মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়িবে। এই গ্যাস পাইপের ভয়ে নবীপুরেরকান্দা বিলে জমি চাষ করা বন্ধ করিয়া দিয়াছেন স্থানীয় অনেক কৃষক। এক কৃষক গণমাধ্যমকে জানাইয়াছেন যে, ‘হুনছি এইডা (গ্যাসপাইপ) ছুটলে নাকি কেয়ামত হইয়া যাইব।’

অর্থাত্ স্থানীয়রা এক ধরনের কেয়ামতের ভয়ে তটস্থ থাকিলেও তিন বত্সরেও ঘুম ভাঙে নাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। লাইনটির মূল কর্তৃপক্ষ জিটিসিএল-এর এই ধরনের উদাসীনতা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেই পাইপলাইন দিয়া ৩২ হাজার ঘনফুট গ্যাস চলাচল করে, তাহা বিস্ফোরিত হইলে যে ভয়াবহ দুর্যোগ ঘনাইয়া আসিবে—এই বিষয়টি সাধারণ গ্রামবাসীও অনুধাবন করিতে পারিতেছে, অথচ একরকম ঘুমাইয়া রহিয়াছে জিটিসিএল। যেন ওই আট-দশ গ্রামের মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নাই। আমরা প্রায়শই বাসাবাড়ির গ্যাসের পাইপলাইন বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনার সংবাদ দেখিতে পাই। গত বত্সর নভেম্বরে আশুলিয়ার নরসিংহপুরে তিতাস গ্যাসের পাইপ লাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত হন একজন, পাঁচজন আহত হন। ২০১৫ সালের এপ্রিলে কৈলাশটিলা-আশুগঞ্জ গ্যাস পাইপলাইনের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের আলমনগর এলাকায় ত্রুটি দেখা দিলে শত শত লিটার অপরিশোধিত তেল বাহির হইতে থাকে। গত বত্সর এপ্রিলে আশুলিয়ায় একটি দোতলা ভবনে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জন নিহত হন। দেওয়াল ধসিয়া আহত হন আরও ৬ জন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরায় নূতন ভাড়া করা ফ্ল্যাটে মার্কিন দূতাবাসের এক প্রকৌশলী পাইপ লাইনের ত্রুটির কারণে পরিবারের দু্ই সদস্যসহ নিহত হন, আহত হন আরও দুইজন।

দেখা যাইতেছে বিভিন্ন সময় এই ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটিলেও টনক নড়িতেছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কেহ ইহার দায় লইতে চাহেন না। অভিযোগ আছে যে কাহারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয় না। কোথাও বড় কোনো দুর্ঘটনার পটভূমি বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া তৈরি থাকিলে, যেমনটি দেখা যাইতেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুরেরকান্দায়, ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইতেছে না। ইহা অত্যন্ত দুঃখজনক। এইভাবে চলিতে পারে না। আমাদের আরও নিয়মানুবর্তী ও দায়িত্বশীল হইতে হইবে।