ইউনিসেফের নতুন প্রতিবেদন
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ইউনিসেফের নতুন প্রতিবেদনে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বন্ধে জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই বাল্যবিবাহর প্রচলন সবচেয়ে বেশি এবং এক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যেও রয়েছে দেশটি। কোভিড-১৯ মহামারি শিশুবিয়ে বন্ধে অগ্রগতিকে আবারও পেছনে ঠেলে দেওয়ার হুমকিতে ফেলেছে।
বাল্যবিবাহ বন্ধে বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফ উভয়েই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশে আরো পরিবর্তন আনতে প্রচেষ্টা প্রয়োজন। যদিও বাংলাদেশে বাল্যবিবাহর প্রবণতা ১৯৭০ সালের তুলনায় ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে, তা সত্ত্বেও এখনো এ হার অনেক বেশি। বর্তমানে ২০-২৪ বছর বয়সি নারীদের ৫১ শতাংশের বিবাহ হয়েছে তাদের শিশু অবস্থাতেই। এটি এ দেশকে ৩ কোটি ৮০ লাখ ‘শিশু কনের’ দেশে পরিণত করেছে, যাদের বিবাহ হয়েছে তাদের ১৮তম জন্মদিনের আগেই। আবার তাদের মধ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ নারীর বিবাহ হয়েছে তাদের বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগেই।
শিশু এবং পরিবারগুলো যখন স্কুল বন্ধ হওয়া, আয় কমে যাওয়া এবং ঘরে বেড়ে যাওয়া চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে, তখনই বাল্যবিবাহর ঝুঁকি আরো বেড়েছে। এদিকে সাধারণ সময়েও অবিবাহিত মেয়েদের তুলনায় বিবাহিত মেয়েদের বিদ্যালয় থেকে ছিটকে যাওয়ার ঝুঁকি চার গুণের বেশি।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের উপপ্রতিনিধি ভিরা মেন্ডোনকা বলেন, একসঙ্গে আমাদের অবশ্যই ক্ষতিকর রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে এবং বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে। মানবাধিকারের এ লঙ্ঘন ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি বয়ে আনছে, যা শিশুদের কাছ থেকে তাদের শৈশব ছিনিয়ে নিচ্ছে এবং নিজের পছন্দের জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ সীমিত করে দিচ্ছে। মেয়েদের বেঁচে থাকা ও শিক্ষাগ্রহণের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে এবং তাদের সহিংসতা ও নিগ্রহণের শিকার হওয়া কমাতে আমাদের এখনই বিনিয়োগ করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক রীতিনীতির পাশাপাশি আইন ও নীতিমালার মতো লিঙ্গ বৈষম্যের কাঠামোগত কারণগুলোকে পরিবর্তন করতে ইউনিসেফ সরকার, সুশীলসমাজ ও এনজিওসহ অংশীদারদের একটি বিস্তৃত জোটের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে। এটি মেয়েদের স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন বিকল্প থেকে নিজের পছন্দের জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
